০৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সীমান্তে নিহত মুজিবের স্ত্রীকে ৮০০ টাকা সহায়তা, নাসীরুদ্দীন-সারজিসের প্রতি ক্ষোভ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ৫১৩

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত মুজিবুর রহমানের পরিবারকে মাত্র ৮০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম দাবি করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই সামান্য অর্থ তার হাতে তুলে দেন।

নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম বলেন, “একটা মানুষ মারা গেল, তার বদলে এই টাকা! এই টাকা দিয়ে আমরা এখন কী করব?”

জানা যায়, গত ১২ জুন সন্ধ্যায় মাছ ধরতে গিয়ে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন মুজিবুর রহমান। পরে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত ২৬ জুন নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কুলাউড়া উপজেলার ১১ নম্বর শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রামে যান এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সমন্বয়ক সারজিস আলম। এ সময় তারা স্থানীয়দের কাছে নিহতের পরিবারের জন্য সহযোগিতার আহ্বান জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে সংগৃহীত অর্থের মধ্যে মাত্র ৮০০ টাকা নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগমের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রহিমা বেগম বলেন,
“আমার তিনটি ছোট সন্তান, আরেকটি সন্তান গর্ভে। ঢাকার নেতারা এত বড় গাড়িবহর নিয়ে আসায় এলাকার মানুষ ভাবছে আমরা তিন-চার লাখ টাকা সহায়তা পেয়েছি। কিন্তু পরে শাশুড়ির কাছ থেকে জানতে পারি আমার হাতে দেওয়া টাকার পরিমাণ মাত্র ৮০০ টাকা। এখন মানুষ ভুল ধারণা করছে, আর আমরা লোকলজ্জায় পড়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “একটা মানুষ মারা গেছে, তার বিনিময়ে এই সামান্য টাকা দিয়ে কী হবে? আমাদের তো সামনে পুরো জীবন পড়ে আছে।”

নিহতের মা লায়লা বেগম বলেন, পুত্রবধূর হাতে দেওয়া টাকা পরে গুনে দেখেন, সেখানে ৮০০ টাকা ছিল।

তার ভাষ্য, “নেতারা বলেছিলেন পরে একটি বড় তহবিল গঠন করে আমাদের সহায়তা করা হবে। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে এত অল্প টাকা দেওয়ায় আমরা খুবই কষ্ট পেয়েছি।”

বর্তমানে নিহত মুজিবুর রহমানের পরিবারে রয়েছেন তার বৃদ্ধা মা লায়লা বেগম, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রহিমা বেগম, তিন বছর বয়সী মেয়ে মাইশা আক্তার এবং এক বছর বয়সী ছেলে মোজাহিদ আলী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবারটির পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সহায়তা সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিংবা সমন্বয়ক সারজিস আলমের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

 

সর্বাধিক পঠিত

৫৯ বছরের জরাজীর্ণ ভবনে আতঙ্ক, শ্রেণিকক্ষ সংকটে বেনাপোলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বারান্দায় চলছে পাঠদান

সীমান্তে নিহত মুজিবের স্ত্রীকে ৮০০ টাকা সহায়তা, নাসীরুদ্দীন-সারজিসের প্রতি ক্ষোভ

আপডেট: ০৪:৫৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নিহত মুজিবুর রহমানের পরিবারকে মাত্র ৮০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ও আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম দাবি করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের বাড়িতে গিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই সামান্য অর্থ তার হাতে তুলে দেন।

নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম বলেন, “একটা মানুষ মারা গেল, তার বদলে এই টাকা! এই টাকা দিয়ে আমরা এখন কী করব?”

জানা যায়, গত ১২ জুন সন্ধ্যায় মাছ ধরতে গিয়ে কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন মুজিবুর রহমান। পরে বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত ২৬ জুন নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে কুলাউড়া উপজেলার ১১ নম্বর শরীফপুর ইউনিয়নের দত্তগ্রামে যান এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সমন্বয়ক সারজিস আলম। এ সময় তারা স্থানীয়দের কাছে নিহতের পরিবারের জন্য সহযোগিতার আহ্বান জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, পরে সংগৃহীত অর্থের মধ্যে মাত্র ৮০০ টাকা নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগমের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রহিমা বেগম বলেন,
“আমার তিনটি ছোট সন্তান, আরেকটি সন্তান গর্ভে। ঢাকার নেতারা এত বড় গাড়িবহর নিয়ে আসায় এলাকার মানুষ ভাবছে আমরা তিন-চার লাখ টাকা সহায়তা পেয়েছি। কিন্তু পরে শাশুড়ির কাছ থেকে জানতে পারি আমার হাতে দেওয়া টাকার পরিমাণ মাত্র ৮০০ টাকা। এখন মানুষ ভুল ধারণা করছে, আর আমরা লোকলজ্জায় পড়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “একটা মানুষ মারা গেছে, তার বিনিময়ে এই সামান্য টাকা দিয়ে কী হবে? আমাদের তো সামনে পুরো জীবন পড়ে আছে।”

নিহতের মা লায়লা বেগম বলেন, পুত্রবধূর হাতে দেওয়া টাকা পরে গুনে দেখেন, সেখানে ৮০০ টাকা ছিল।

তার ভাষ্য, “নেতারা বলেছিলেন পরে একটি বড় তহবিল গঠন করে আমাদের সহায়তা করা হবে। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে এত অল্প টাকা দেওয়ায় আমরা খুবই কষ্ট পেয়েছি।”

বর্তমানে নিহত মুজিবুর রহমানের পরিবারে রয়েছেন তার বৃদ্ধা মা লায়লা বেগম, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রহিমা বেগম, তিন বছর বয়সী মেয়ে মাইশা আক্তার এবং এক বছর বয়সী ছেলে মোজাহিদ আলী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা পরিবারটির পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সহায়তা সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কিংবা সমন্বয়ক সারজিস আলমের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।