০৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬

ঋণের চাপ ও প্রবাসে প্রতারণার শিকার: মনিরামপুরে যুবকের আত্মহত্যা

সহায়-সম্বল বিক্রি করে এবং ঋণ নিয়ে স্বপ্নের পালে হাওয়া লাগিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মনিরামপুরের ফিরোজ হোসেন (৩৫)। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় হয়নি। দালালের প্রতারণা ও সৌদি আরবের আইনি জটিলতায় পড়ে মাত্র তিন মাসের মধ্যেই খালি হাতে দেশে ফিরতে বাধ্য হন তিনি। দেশে ফেরার পর ঋণের বোঝা আর মানসিক চাপ দিন দিন বেড়েই চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নেন এই যুবক।

রবিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির একটি ঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। জানা যায়, ইন্টারনেটের তার গলায় পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস নেন তিনি। দ্রুত তাকে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিরোজ আগে ভাড়ায় প্রাইভেটকার চালাতেন। পরে নিজের একটি গাড়ি কিনলেও বিদেশ যাওয়ার আশায় সেটি বিক্রি করে দেন এবং উচ্চ সুদে ঋণ নেন। সৌদি আরবে যাওয়ার পর পুলিশি জটিলতায় পড়ে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

এদিকে, পরিবারের দায়িত্বও বেড়ে যায়। দুই মেয়ের পর সম্প্রতি তার স্ত্রী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বর্তমানে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোজার ঈদের আগে দেশে ফেরার পর তিনি আবার গাড়ি চালানো শুরু করেন। কিন্তু প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধের চাপ তাকে আরও হতাশাগ্রস্ত করে তোলে। ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

তবে মৃত্যুকে ঘিরে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। মনিরামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান জানান, নিহতের শরীরে, বিশেষ করে অণ্ডকোষে একটি আঘাতের চিহ্ন ও রক্তপাত দেখা গেছে, যা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এ কারণে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত

গণনাকেন্দ্রে মমতা–শুভেন্দুর মোবাইল বাজেয়াপ্ত, উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

ঋণের চাপ ও প্রবাসে প্রতারণার শিকার: মনিরামপুরে যুবকের আত্মহত্যা

আপডেট: ০৪:৪৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

সহায়-সম্বল বিক্রি করে এবং ঋণ নিয়ে স্বপ্নের পালে হাওয়া লাগিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মনিরামপুরের ফিরোজ হোসেন (৩৫)। কিন্তু ভাগ্য তার সহায় হয়নি। দালালের প্রতারণা ও সৌদি আরবের আইনি জটিলতায় পড়ে মাত্র তিন মাসের মধ্যেই খালি হাতে দেশে ফিরতে বাধ্য হন তিনি। দেশে ফেরার পর ঋণের বোঝা আর মানসিক চাপ দিন দিন বেড়েই চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নেন এই যুবক।

রবিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির একটি ঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। জানা যায়, ইন্টারনেটের তার গলায় পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস নেন তিনি। দ্রুত তাকে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি উপজেলার শেখপাড়া খানপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিরোজ আগে ভাড়ায় প্রাইভেটকার চালাতেন। পরে নিজের একটি গাড়ি কিনলেও বিদেশ যাওয়ার আশায় সেটি বিক্রি করে দেন এবং উচ্চ সুদে ঋণ নেন। সৌদি আরবে যাওয়ার পর পুলিশি জটিলতায় পড়ে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

এদিকে, পরিবারের দায়িত্বও বেড়ে যায়। দুই মেয়ের পর সম্প্রতি তার স্ত্রী একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। বর্তমানে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রোজার ঈদের আগে দেশে ফেরার পর তিনি আবার গাড়ি চালানো শুরু করেন। কিন্তু প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধের চাপ তাকে আরও হতাশাগ্রস্ত করে তোলে। ঘটনার দিন বিকেলে বাড়ি ফিরে ঘরের দরজা বন্ধ করে আত্মহত্যা করেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

তবে মৃত্যুকে ঘিরে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। মনিরামপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুর রহমান জানান, নিহতের শরীরে, বিশেষ করে অণ্ডকোষে একটি আঘাতের চিহ্ন ও রক্তপাত দেখা গেছে, যা সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। এ কারণে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।