দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল স্থলবন্দর–এর আমদানি-রফতানি পণ্য প্রবেশ, খালাস প্রক্রিয়া এবং সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। স্বচ্ছতা, গতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই ছিল এ মতবিনিময় সভার মূল উদ্দেশ্য।
সোমবার সকাল ১১টায় বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই বন্দরের আধুনিকায়ন ও সেবার মান বাড়াতে নানা উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান এবং সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ভারত থেকে আমদানিকৃত এবং বাংলাদেশ থেকে রফতানিকৃত পণ্য—উভয় ক্ষেত্রেই প্রবেশ থেকে খালাস পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় কাস্টমস, বিজিবি ও সিএন্ডএফ এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কঠোর নজরদারির ফলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ কমেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বন্দর কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন পরিচালক। তিনি বলেন, রিলিজ অর্ডারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে কম্পিউটারাইজড করা হয়েছে, ফলে পণ্য খালাস প্রক্রিয়া আগের তুলনায় সহজ ও দ্রুত হয়েছে। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হচ্ছেন।
তিনি আরও জানান, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং অটোমেশন কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকরা যানজট, পণ্য খালাসে বিলম্ব, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন। জবাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব সমস্যা সমাধানে ধাপে ধাপে কাজ চলছে এবং শিগগিরই দৃশ্যমান উন্নতি দেখা যাবে।
এ সময় বন্দর উপ-পরিচালক কাজী রতনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শেষে বন্দর কর্তৃপক্ষ সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রচারে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে।




















