যশোরের মনিরামপুরে হরিহরনদী খননের অতিরিক্ত মাটি বিক্রয়ের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পৌরসভা কার্যালয় এবং আশপাশের এলাকায় এ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ থেকে ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিহরনদী খননের ফলে উত্তোলিত অতিরিক্ত মাটি বিক্রির টেন্ডার এবং মাটি বরাদ্দকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মনিরামপুর পৌরসভা কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। মাটি কাটার বরাদ্দ নিয়ে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই গাড়ি পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে এর আগেই উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক ফজলুর হক অভিযোগ করেন, তাদের সমর্থিত কয়েকজন ব্যক্তি বৈধভাবে টেন্ডারে অংশ নিয়েছিলেন। মাগরিবের নামাজের পর জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আহসান হাবীব লিটন, মাওলানা মহিউল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক, ছাত্রশিবির নেতা ফাহিম, আব্দুল মমিনসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, কয়েকজন নেতাকর্মীকে অবরুদ্ধ করা হয় এবং উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান মিন্টু দাবি করেন, সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায় জামায়াতের নেতাকর্মীরাই। তার ভাষ্য, সন্ধ্যায় প্রথমে ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেনকে মারধর করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে বিএনপি সমর্থক সবুজ হোসেনের ওপর আবার হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় দুর্গাপুরের আলামিন ও সাবেক ছাত্রনেতা অলিয়ার রহমানও আহত হন। পাশাপাশি সবুজ হোসেনের দোকান ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নদী খননের মাটির টেন্ডারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
ওসি আরও জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পুলিশের হিসাবে তিন থেকে চারজন আহত হয়েছেন, যদিও উভয় পক্ষই বেশি সংখ্যক আহত হওয়ার দাবি করছে।

















