০৬:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

*সীমান্তে ‘সাপ-কুমির মোতায়েন’ গুজবে লালমনিরহাটে আতঙ্ক, চোরাচালান বাড়ার আশঙ্কা বিজিবির

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৪১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • ৫১১

ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিষধর সাপ ও কুমির ছাড়ার পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পর লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এ গুজবকে কেন্দ্র করে সাপের বিষ ও কুমিরের চামড়ার অবৈধ বাণিজ্য বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা। প্রায় ২৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তজুড়ে রয়েছে বন, জঙ্গল, নদী, খাল-বিল এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এসব প্রাকৃতিক সম্পদের ওপরই নির্ভর করে স্থানীয় মানুষের জীবিকা।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাপ ও কুমির ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সীমান্তবর্তী জনপদে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মাঠে কাজ করতে কিংবা নদী-খালে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল লতিফ বলেন, এ ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। বিশেষ করে জঙ্গল, নদী কিংবা খাল-বিলে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই শঙ্কায় ভুগছেন।

আরেক বাসিন্দা মো. মুকুল হোসেন বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে সত্যিই এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে খবরটি মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা জানায়নি। তাই বিষয়টিকে আপাতত গুজব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অতীতে কোথাও কোথাও সীমান্ত পাহারায় প্রাণী ব্যবহারের নজির থাকলেও আধুনিক সময়ে তা অকার্যকর ও অমানবিক। সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সাপের বিষ ও কুমিরের চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্য থাকায় এ গুজবকে কেন্দ্র করে নতুন করে চোরাচালান চক্র সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। সাপের বিষ ও কুমিরের চামড়া বিভিন্ন মূল্যবান ওষুধ ও বিলাসবহুল পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরাও। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, বাস্তবে যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে তা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং মানবজীবনের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, সীমান্তে সাপ ও কুমির ব্যবহারের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে গুজবের প্রভাবেই সীমান্তবাসীর মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি সম্ভাব্য চোরাচালান নিয়ে নতুন উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

মহান মে দিবসে নয়াপল্টনে শ্রমিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

*সীমান্তে ‘সাপ-কুমির মোতায়েন’ গুজবে লালমনিরহাটে আতঙ্ক, চোরাচালান বাড়ার আশঙ্কা বিজিবির

আপডেট: ০৪:৪১:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিষধর সাপ ও কুমির ছাড়ার পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পর লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে এ গুজবকে কেন্দ্র করে সাপের বিষ ও কুমিরের চামড়ার অবৈধ বাণিজ্য বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা। প্রায় ২৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সীমান্তজুড়ে রয়েছে বন, জঙ্গল, নদী, খাল-বিল এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এসব প্রাকৃতিক সম্পদের ওপরই নির্ভর করে স্থানীয় মানুষের জীবিকা।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাপ ও কুমির ছাড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সীমান্তবর্তী জনপদে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মাঠে কাজ করতে কিংবা নদী-খালে যেতে ভয় পাচ্ছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল লতিফ বলেন, এ ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। বিশেষ করে জঙ্গল, নদী কিংবা খাল-বিলে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই শঙ্কায় ভুগছেন।

আরেক বাসিন্দা মো. মুকুল হোসেন বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে সত্যিই এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে খবরটি মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনার কথা জানায়নি। তাই বিষয়টিকে আপাতত গুজব হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, অতীতে কোথাও কোথাও সীমান্ত পাহারায় প্রাণী ব্যবহারের নজির থাকলেও আধুনিক সময়ে তা অকার্যকর ও অমানবিক। সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সাপের বিষ ও কুমিরের চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্য থাকায় এ গুজবকে কেন্দ্র করে নতুন করে চোরাচালান চক্র সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। সাপের বিষ ও কুমিরের চামড়া বিভিন্ন মূল্যবান ওষুধ ও বিলাসবহুল পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরাও। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তুহিন ওয়াদুদ বলেন, বাস্তবে যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে তা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং মানবজীবনের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, সীমান্তে সাপ ও কুমির ব্যবহারের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে গুজবের প্রভাবেই সীমান্তবাসীর মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি সম্ভাব্য চোরাচালান নিয়ে নতুন উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।