যশোরের চৌগাছা উপজেলায় প্রস্তাবিত মডেল মসজিদ নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী, কৃষক ও প্রশাসনের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত স্থানে মসজিদ নির্মাণ হলে ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কায় স্থান পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে উপজেলা প্রশাসন নির্ধারিত স্থানে মাটি পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের বিক্ষোভের মুখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাব-সয়েল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড কাজ বন্ধ করে মালপত্র গুটিয়ে স্থান ত্যাগ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চৌগাছা পাইকারি কাঁচাবাজারের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু ওই স্থানে প্রায় ১৭২টি আড়ৎ রয়েছে, যেখানে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। ফলে সেখানে মসজিদ নির্মাণ হলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা ইতোমধ্যে উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের বিনিয়োগ ৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকার মধ্যে। বাজারের মাঝখানে মসজিদ নির্মাণ হলে পুরো বাজার ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।
চৌগাছা কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন বলেন, “আমরা মডেল মসজিদের বিরোধী নই। তবে বর্তমান স্থানে নির্মাণ হলে ২৫০০ থেকে ৩০০০ পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। বাজারের পাশেই বিকল্প জায়গা রয়েছে, সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা হলে সবার জন্যই সুবিধাজনক হবে।”
সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান বলেন, “সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে মসজিদ নির্মাণ ইসলাম সমর্থন করে কি না—এ বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।”
এদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন জানান, নির্ধারিত স্থানে বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবিকা জড়িত থাকায় সেখানে কাজ চালানো সম্ভব হয়নি। বিক্ষোভের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে চৌগাছা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে পরে জানানো হবে।”




















