০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

শরীয়তপুরে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মসজিদের ইমাম আটক

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:১৫:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৭

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মসজিদের ইমাম ও মাদরাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্তের এমন কর্মকাণ্ডে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তির নাম **আবুল বাশার ফরাজি (৫৮)**। তিনি ছোট গোপালপুর এলাকার মৃত আফতাব উদ্দিন ফরাজীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।

ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসারই শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন বিকেলে আবুল বাশার কৌশলে শিশুটিকে একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকারে বা অস্বাভাবিকতা টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে জাজিরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ভুক্তভোগী শিশুর মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:
> “আমার মেয়ে নিয়মিত ওই মাদরাসায় পড়তে যেত। একজন শিক্ষক আর ইমামের কাছে সন্তানকে নিরাপদ ভেবেই পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি যে এমন ন্যক্কারজনক কাজ করবেন তা ভাবিনি। আমি এই ঘটনার কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে অভিযুক্ত আবুল বাশারকে নিজের অপরাধ স্বীকার করতে দেখা গেছে। ভিডিওতে তিনি নিজের কাজের জন্য “শয়তানের প্ররোচনা”কে দায়ী করেন এবং নিজেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন।

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলার জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য **তাজুল ইসলাম** বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কোনো পদে নেই, তিনি কেবল একজন সমর্থক। অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। দল কখনো কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না।”

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) **সালেহ্ আহম্মদ** জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন:
“অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সচেতন মহল শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দোষী ব্যক্তির দ্রুত ও কঠোর বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

শরীয়তপুরে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মসজিদের ইমাম আটক

শরীয়তপুরে শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মসজিদের ইমাম আটক

আপডেট: ০৯:১৫:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মসজিদের ইমাম ও মাদরাসা শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্তের এমন কর্মকাণ্ডে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক ব্যক্তির নাম **আবুল বাশার ফরাজি (৫৮)**। তিনি ছোট গোপালপুর এলাকার মৃত আফতাব উদ্দিন ফরাজীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতির পাশাপাশি একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।

ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদরাসারই শিক্ষার্থী। ঘটনার দিন বিকেলে আবুল বাশার কৌশলে শিশুটিকে একটি নির্জন কক্ষে ডেকে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকারে বা অস্বাভাবিকতা টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে জাজিরা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

ভুক্তভোগী শিশুর মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন:
> “আমার মেয়ে নিয়মিত ওই মাদরাসায় পড়তে যেত। একজন শিক্ষক আর ইমামের কাছে সন্তানকে নিরাপদ ভেবেই পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি যে এমন ন্যক্কারজনক কাজ করবেন তা ভাবিনি। আমি এই ঘটনার কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে অভিযুক্ত আবুল বাশারকে নিজের অপরাধ স্বীকার করতে দেখা গেছে। ভিডিওতে তিনি নিজের কাজের জন্য “শয়তানের প্ররোচনা”কে দায়ী করেন এবং নিজেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন।

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলার জামায়াতের শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য **তাজুল ইসলাম** বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি দলের কোনো পদে নেই, তিনি কেবল একজন সমর্থক। অপরাধী যে-ই হোক, অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত। দল কখনো কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না।”

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) **সালেহ্ আহম্মদ** জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ পাঠিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন:
“অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে তাৎক্ষণিক আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সচেতন মহল শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দোষী ব্যক্তির দ্রুত ও কঠোর বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।