যশোরের চৌগাছায় গ্রেপ্তারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধ’ সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি করার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৮ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর ফলে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-১ আসামিপক্ষের দায়মুক্তির আবেদন খারিজ করে এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ১ জুন প্রসিকিউশনের উদ্বোধনী বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন তৎকালীন যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল, এসআই মাজেদুল, উপপরিদর্শক আতিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান এবং কনস্টেবল জহরুল হক। এদের মধ্যে আতিকুল ইসলাম, সাজ্জাদুর রহমান ও জহরুল হক বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
মামলার ভুক্তভোগী দুইজন হলেন যশোর জেলা পশ্চিম চৌগাছা উপজেলার ছাত্রশিবিরের ২০১৬ সালের সাহিত্য সম্পাদক মো. রুহুল আমিন এবং থানা সেক্রেটারি ইস্রাফিল হোসেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট সাংগঠনিক কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দুলীতলা এলাকার শফি মল্লিকের ইটভাটার মোড় থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন ৪ আগস্ট ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুনরায় থানায় ফেরার পথে কয়ারপাড়া এলাকায় তাদের হ্যান্ডকাফ পরিয়ে চোখ বেঁধে ফেলা হয়।
পরে গভীর রাতে বন্দুলীতলার একটি নির্জন মাঠে নিয়ে গিয়ে তাদের হাঁটুর নিচে গুলি করা হয়। এতে তাদের পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহত অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে যশোর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাদের ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানে ভর্তি হওয়ার সাত দিন পর পায়ে পচন ধরায় চিকিৎসকরা তাদের পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। এদিকে, ঘটনাটি ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হিসেবে গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা দিয়ে চিকিৎসা শেষে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার বিচার শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিন পর ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।




















