০৭:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের কানপুরে যমজ কন্যাকে হত্যা করে নিজেই পুলিশে ফোন দিলেন বাবা**

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:০২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১১

ভারতের উত্তর প্রদেশ-এর কানপুর শহরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তার ১১ বছর বয়সী যমজ কন্যাকে গলা কেটে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) ভোরে তাদের নিজ বাসায় এই ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত শশী রঞ্জন নিজেই পুলিশে ফোন করে দুই মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি পেশায় একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ।পুলিশ জানায়, শশী রঞ্জন মিশ্র মূলত বিহারের বাসিন্দা। তিনি তার স্ত্রী রেশমা, যমজ কন্যা ঋদ্ধি ও সিদ্ধি এবং ছয় বছর বয়সী এক পুত্রকে নিয়ে কানপুরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্ত্রীর প্রতি পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই দাম্পত্য কলহ চলছিল। প্রায়ই তিনি স্ত্রীকে আলাদা থাকার কথা বলতেন এবং মেয়েদের দায়িত্ব নিজে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতেন। রেশমার দাবি, শশী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন এবং বাসার ভেতরে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। এমনকি তিনি মেয়েদের কক্ষে কাউকে প্রবেশ করতে দিতেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শনিবার রাতের খাবারের পর শশী দুই মেয়েকে ঘুমাতে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তিনি এক মেয়েকে বাথরুমে নিয়ে যান এবং পরে তারা ঘরে ফিরে আসে। এরপর ঘরের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি জরুরি সেবায় ফোন করে জানান যে তিনি তার দুই কন্যাকে হত্যা করেছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শিশুকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তাদের গলা কাটা ছিল। ঘটনাস্থলেই অভিযুক্তকে আটক করা হয়।

কানপুরের উপ-পুলিশ কমিশনার দীপেন্দ্র নাথ চৌধুরী জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রেশমা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। কানপুরে একটি বিউটি পার্লারে কাজ করার সময় শশীর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে ২০১৪ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল চেকপোস্টে যাত্রী পারাপারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি জোরালো ।

ভারতের কানপুরে যমজ কন্যাকে হত্যা করে নিজেই পুলিশে ফোন দিলেন বাবা**

আপডেট: ০৫:০২:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশ-এর কানপুর শহরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি তার ১১ বছর বয়সী যমজ কন্যাকে গলা কেটে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) ভোরে তাদের নিজ বাসায় এই ঘটনা ঘটে।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত শশী রঞ্জন নিজেই পুলিশে ফোন করে দুই মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি পেশায় একজন মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ।পুলিশ জানায়, শশী রঞ্জন মিশ্র মূলত বিহারের বাসিন্দা। তিনি তার স্ত্রী রেশমা, যমজ কন্যা ঋদ্ধি ও সিদ্ধি এবং ছয় বছর বয়সী এক পুত্রকে নিয়ে কানপুরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, স্ত্রীর প্রতি পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই দাম্পত্য কলহ চলছিল। প্রায়ই তিনি স্ত্রীকে আলাদা থাকার কথা বলতেন এবং মেয়েদের দায়িত্ব নিজে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতেন। রেশমার দাবি, শশী দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন এবং বাসার ভেতরে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। এমনকি তিনি মেয়েদের কক্ষে কাউকে প্রবেশ করতে দিতেন না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শনিবার রাতের খাবারের পর শশী দুই মেয়েকে ঘুমাতে নিয়ে যান। রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তিনি এক মেয়েকে বাথরুমে নিয়ে যান এবং পরে তারা ঘরে ফিরে আসে। এরপর ঘরের আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি জরুরি সেবায় ফোন করে জানান যে তিনি তার দুই কন্যাকে হত্যা করেছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শিশুকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তাদের গলা কাটা ছিল। ঘটনাস্থলেই অভিযুক্তকে আটক করা হয়।

কানপুরের উপ-পুলিশ কমিশনার দীপেন্দ্র নাথ চৌধুরী জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রেশমা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। কানপুরে একটি বিউটি পার্লারে কাজ করার সময় শশীর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে ২০১৪ সালে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।