০৬:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ফেরত ও চাকরি পুনর্বহালের দাবি: দিলকুশায় অবস্থান কর্মসূচি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৬

ইসলামী ব্যাংকসহ পাঁচটি ব্যাংকের মালিকানা এস আলম গ্রুপের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটিতে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তাদের প্রধান দাবি—চাকরিতে পুনর্বহাল, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল এবং ব্যাংকের মালিকানা আবারও এস আলম গ্রুপ-এর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
এ সময় তারা “আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নিজেদের বৈষম্যের শিকার বলে উল্লেখ করেন।
সূত্র জানায়, নতুন প্রণীত ব্যাংক রেজুলেশন আইন-২০২৬ অনুযায়ী মার্জার হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের সাবেক মালিকদের ফেরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর ফলে মালিকানা নিয়ে বিতর্কও তীব্র হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, চাকরিচ্যুতদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকের বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এআই-নির্ভর ছবি ও পোস্ট ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। এছাড়া আন্দোলন জোরদার করতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ঢাকায় আনা হয়েছে বলেও জানা গেছে। গত রাতেও শতাধিক মাইক্রোবাসে করে অনেককে রাজধানীতে আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া পটিয়া এলাকার আল-আমিন বলেন, তারা দীর্ঘদিন চাকরি করার পর হঠাৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিনা কারণে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। তাই তাদের চাকরি ফেরত দিতে হবে এবং আগের মালিকানাও পুনর্বহাল করতে হবে।

তবে এ দাবির বিরোধিতা করেছেন ব্যাংকের গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ রাষ্ট্রীয় প্রভাব ব্যবহার করে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং বৈধ মালিক ও বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সরিয়ে দেয়। তারা আরও বলেন, পরবর্তীতে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে বিপুল অর্থ লুট করা হয়েছে।

ফোরামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৭ হাজার ২২৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মধ্যে অধিকাংশই চট্টগ্রাম অঞ্চলের এবং বড় অংশ পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তাদের মতে, এসব নিয়োগে স্বচ্ছতা ছিল না এবং তা দেশের অন্যান্য জেলার চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রতি বৈষম্যমূলক ছিল।

এদিকে এসব নিয়োগপ্রাপ্তদের দক্ষতা যাচাই করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ (আইবিএ)-এর মাধ্যমে একটি মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। প্রায় ৫ হাজার ৩৮৫ জনকে পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হলেও অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৯৭১ জন অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।

বর্তমানে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হোসেন খানকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে, যা নিয়ে ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, চাকরিচ্যুতরা ব্যাংকের দৃষ্টিতে যৌক্তিক কারণেই বরখাস্ত হয়েছেন। তারা দাবি জানাতে পারেন, তবে মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারাধীন এবং এ বিষয়ে চাপ সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও জানান, চলমান আন্দোলন ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় কোনো প্রভাব ফেলেনি এবং গ্রাহকদের আমানত প্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল চেকপোস্টে যাত্রী পারাপারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি জোরালো ।

ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ফেরত ও চাকরি পুনর্বহালের দাবি: দিলকুশায় অবস্থান কর্মসূচি

আপডেট: ০৪:৪৩:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকসহ পাঁচটি ব্যাংকের মালিকানা এস আলম গ্রুপের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের পুনর্বহালের দাবিতে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা। রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর দিলকুশা এলাকায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর প্রধান কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটিতে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে দাবি করেন। তাদের প্রধান দাবি—চাকরিতে পুনর্বহাল, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল এবং ব্যাংকের মালিকানা আবারও এস আলম গ্রুপ-এর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া।
এ সময় তারা “আমার সোনার বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নিজেদের বৈষম্যের শিকার বলে উল্লেখ করেন।
সূত্র জানায়, নতুন প্রণীত ব্যাংক রেজুলেশন আইন-২০২৬ অনুযায়ী মার্জার হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের সাবেক মালিকদের ফেরার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর ফলে মালিকানা নিয়ে বিতর্কও তীব্র হয়েছে।

অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, চাকরিচ্যুতদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকের বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এআই-নির্ভর ছবি ও পোস্ট ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। এছাড়া আন্দোলন জোরদার করতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ঢাকায় আনা হয়েছে বলেও জানা গেছে। গত রাতেও শতাধিক মাইক্রোবাসে করে অনেককে রাজধানীতে আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া পটিয়া এলাকার আল-আমিন বলেন, তারা দীর্ঘদিন চাকরি করার পর হঠাৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিনা কারণে চাকরিচ্যুত হয়েছেন। তাই তাদের চাকরি ফেরত দিতে হবে এবং আগের মালিকানাও পুনর্বহাল করতে হবে।

তবে এ দাবির বিরোধিতা করেছেন ব্যাংকের গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ রাষ্ট্রীয় প্রভাব ব্যবহার করে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং বৈধ মালিক ও বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সরিয়ে দেয়। তারা আরও বলেন, পরবর্তীতে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে বিপুল অর্থ লুট করা হয়েছে।

ফোরামের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৭ হাজার ২২৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মধ্যে অধিকাংশই চট্টগ্রাম অঞ্চলের এবং বড় অংশ পটিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তাদের মতে, এসব নিয়োগে স্বচ্ছতা ছিল না এবং তা দেশের অন্যান্য জেলার চাকরিপ্রত্যাশীদের প্রতি বৈষম্যমূলক ছিল।

এদিকে এসব নিয়োগপ্রাপ্তদের দক্ষতা যাচাই করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ (আইবিএ)-এর মাধ্যমে একটি মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। প্রায় ৫ হাজার ৩৮৫ জনকে পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হলেও অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৯৭১ জন অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।

বর্তমানে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হোসেন খানকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে, যা নিয়ে ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন বলেন, চাকরিচ্যুতরা ব্যাংকের দৃষ্টিতে যৌক্তিক কারণেই বরখাস্ত হয়েছেন। তারা দাবি জানাতে পারেন, তবে মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারাধীন এবং এ বিষয়ে চাপ সৃষ্টি গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও জানান, চলমান আন্দোলন ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বড় কোনো প্রভাব ফেলেনি এবং গ্রাহকদের আমানত প্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে।