০৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি বাজারে চাপ মোকাবিলা: আজ থেকে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত*

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৪:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৬

দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে সৃষ্ট অস্বাভাবিক চাপ সামাল দিতে সরকার আজ থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের বাড়তি বরাদ্দ দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হচ্ছে, আর পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে ১০ শতাংশ করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সরবরাহ এতদিন দেওয়া হচ্ছিল গত বছরের গড় চাহিদার ভিত্তিতে। ফলে বাজারে ঘাটতি ও চাপ তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পাম্পভিত্তিক নতুন বরাদ্দ নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এবং কোনো এলাকায় সংকট না থাকে।
দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। চলতি এপ্রিল মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। বর্তমানে কার্যকর মজুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন। এছাড়া চারটি জাহাজে আরও এক লাখ টনের বেশি ডিজেল দেশে আসার কথা রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদা করে প্রায় ৮০ হাজার টন মজুত রাখা হয়েছে। সরবরাহ সীমিত থাকায় এ মাসে দৈনিক গড় বিক্রি কমে ১১ হাজার ১০৭ টনে নেমে এলেও আজ থেকে তা বাড়িয়ে প্রায় ১৩ হাজার টনে উন্নীত করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল ১১ হাজার ৮৬২ টন।
অকটেনের ক্ষেত্রে সরাসরি ঘাটতি না থাকলেও চাহিদার চাপ বেশি। বর্তমানে দেশে প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৪ টন অকটেন মজুত রয়েছে, যা প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম। তবুও ভোক্তা পর্যায়ে চাপ কমাতে দৈনিক সরবরাহ ১ হাজার ১২৯ টন থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ হাজার ৩৬৬ টনে নেওয়া হচ্ছে, অর্থাৎ অতিরিক্ত ২৩৭ টন যোগ করা হচ্ছে। গত বছরের এপ্রিলে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল ১ হাজার ১৮৫ টন।

পেট্রলের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৮৩০ টন। এপ্রিলে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২৫৩ টন বিক্রি হলেও এতে আরও ১৩৭ টন যোগ করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৭৪ টন।

জ্বালানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত বছরে জ্বালানির চাহিদা ৪ থেকে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে এবার চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করায় সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। সংগঠনটির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ বলেন, এই উদ্যোগের ফলে অপ্রয়োজনীয় মজুত প্রবণতা কমবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোল চেকপোস্টে যাত্রী পারাপারে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি জোরালো ।

জ্বালানি বাজারে চাপ মোকাবিলা: আজ থেকে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত*

আপডেট: ০৪:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে সৃষ্ট অস্বাভাবিক চাপ সামাল দিতে সরকার আজ থেকে সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের বাড়তি বরাদ্দ দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, অকটেনের সরবরাহ ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হচ্ছে, আর পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে ১০ শতাংশ করে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে। কিন্তু সরবরাহ এতদিন দেওয়া হচ্ছিল গত বছরের গড় চাহিদার ভিত্তিতে। ফলে বাজারে ঘাটতি ও চাপ তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখন জেলা প্রশাসনের সহায়তায় পাম্পভিত্তিক নতুন বরাদ্দ নির্ধারণ করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এবং কোনো এলাকায় সংকট না থাকে।
দেশের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। চলতি এপ্রিল মাসে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। বর্তমানে কার্যকর মজুত রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার টন। এছাড়া চারটি জাহাজে আরও এক লাখ টনের বেশি ডিজেল দেশে আসার কথা রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য আলাদা করে প্রায় ৮০ হাজার টন মজুত রাখা হয়েছে। সরবরাহ সীমিত থাকায় এ মাসে দৈনিক গড় বিক্রি কমে ১১ হাজার ১০৭ টনে নেমে এলেও আজ থেকে তা বাড়িয়ে প্রায় ১৩ হাজার টনে উন্নীত করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল ১১ হাজার ৮৬২ টন।
অকটেনের ক্ষেত্রে সরাসরি ঘাটতি না থাকলেও চাহিদার চাপ বেশি। বর্তমানে দেশে প্রায় ২৯ হাজার ৪৮৪ টন অকটেন মজুত রয়েছে, যা প্রায় ২৫ দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম। তবুও ভোক্তা পর্যায়ে চাপ কমাতে দৈনিক সরবরাহ ১ হাজার ১২৯ টন থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ হাজার ৩৬৬ টনে নেওয়া হচ্ছে, অর্থাৎ অতিরিক্ত ২৩৭ টন যোগ করা হচ্ছে। গত বছরের এপ্রিলে দৈনিক গড় বিক্রি ছিল ১ হাজার ১৮৫ টন।

পেট্রলের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মজুত রয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৮৩০ টন। এপ্রিলে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ২৫৩ টন বিক্রি হলেও এতে আরও ১৩৭ টন যোগ করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৭৪ টন।

জ্বালানি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত বছরে জ্বালানির চাহিদা ৪ থেকে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত কেনাকাটার কারণে এবার চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ফলে বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দেশে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করায় সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। সংগঠনটির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ বলেন, এই উদ্যোগের ফলে অপ্রয়োজনীয় মজুত প্রবণতা কমবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।