নড়াইল সদর উপজেলায় পাওনা টাকা ফেরত না পেয়ে এক ব্যক্তির বসতঘরের চালের টিন, বেড়া, এমনকি রান্নাঘরের খুঁটি পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে উপজেলার বিছালী ইউনিয়নের রুখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুখালী গ্রামের জাফর সিকদারের ছেলে জাহিদ সিকদার একই গ্রামের কয়েকজনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা ধার নেন। পাওনাদাররা টাকা ফেরত চাইলে তিনি বারবার সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে জাহিদ বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিজানুর বিশ্বাস, মিরাজ বিশ্বাস, মিকাইল বিশ্বাস ও ইয়াসিন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি জাহিদের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। তারা ঘরের চালের টিন ও বেড়া খুলে নিয়ে যায়। পরদিন আবার এসে রান্নাঘরের চালা, খুঁটি এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্রও খুলে নিয়ে যায় বলে দাবি পরিবারের।
ঘটনার সময় জাহিদের ৮০ বছর বয়সী দাদি খাদিজা বেগম ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি হামলাকারীদের পা জড়িয়ে ধরে অনুরোধ করলেও কেউ কর্ণপাত করেনি। অসহায় কণ্ঠে তিনি বলেন, “তারা ভ্যানে করে ঘরের টিন নিয়ে যাচ্ছিল। আমি লাঠিতে ভর দিয়ে পুলিশ ক্যাম্পে গিয়েও কোনো সাহায্য পাইনি। একজন পুলিশ এলেই হয়তো আমার ঘরটা বাঁচানো যেত।”
জাহিদের বাবা জাফর সিকদার এই ঘটনাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে বলেন, “দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে তারা আমার সব ঘরের টিন ও মালপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মিকাইল বিশ্বাস ভিন্ন দাবি করে বলেন, “জাহিদ আমার মোবাইল ফোন নিয়ে অন্যত্র বন্ধক রেখে পালিয়েছে। সে এলাকার যুবসমাজ নষ্ট করছে। তাই ঘরের কিছু জিনিস বিক্রি করে আমি আমার ফোন ছাড়িয়ে এনেছি।”
এদিকে মির্জাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই সুব্রত কুমার দাস এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তারা জানান।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এমন ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।




















