১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

কেশবপুরে শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে তাণ্ডব, ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত—মৌসুমি ফল ও ফসলে ব্যাপক ক্ষতি

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৯:২১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৩

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টিনের ঘরের ছাউনি উড়ে গেছে, অনেক ঘরের চালা ভেঙে পড়েছে এবং অসংখ্য বসতঘর আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে হঠাৎ করে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় তীব্র শিলাবৃষ্টি ও ঝড়। ঝড়ের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের টিন, বাঁশ ও কাঠামো ছিটকে পড়ে। অনেক পরিবারের রান্নাঘর ও বসতঘরের ছাউনি উড়ে যাওয়ায় তারা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এতে ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।
ঝড়ে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফলের বাগানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে।
এছাড়া শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাকা ও আধাপাকা ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, ফলে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বড় বড় গাছ সড়কের ওপর পড়ে থাকায় কিছু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ভাষ্য, হঠাৎ এই দুর্যোগে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন এবং দ্রুত সরকারি সহায়তা কামনা করছেন।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কেশবপুর জোনাল অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, যশোর থেকে আসা প্রধান লাইনের পাশাপাশি উপজেলার অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ লাইনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় তার ছিঁড়ে গেছে এবং খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বেশ সময় লাগবে।

স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে ‘বিতর্কিত’ রসুল আটক, নাশকতা মামলায় কারাগারে প্রেরণ

কেশবপুরে শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে তাণ্ডব, ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত—মৌসুমি ফল ও ফসলে ব্যাপক ক্ষতি

আপডেট: ০৯:২১:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টিনের ঘরের ছাউনি উড়ে গেছে, অনেক ঘরের চালা ভেঙে পড়েছে এবং অসংখ্য বসতঘর আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে হঠাৎ করে আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় তীব্র শিলাবৃষ্টি ও ঝড়। ঝড়ের গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের টিন, বাঁশ ও কাঠামো ছিটকে পড়ে। অনেক পরিবারের রান্নাঘর ও বসতঘরের ছাউনি উড়ে যাওয়ায় তারা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এতে ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।
ঝড়ে আম, লিচুসহ মৌসুমি ফলের বাগানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসংখ্য গাছপালা ভেঙে পড়েছে এবং বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে।
এছাড়া শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাকা ও আধাপাকা ধানগাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, ফলে কৃষকদের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বড় বড় গাছ সড়কের ওপর পড়ে থাকায় কিছু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিঘ্নিত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ভাষ্য, হঠাৎ এই দুর্যোগে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন এবং দ্রুত সরকারি সহায়তা কামনা করছেন।
যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কেশবপুর জোনাল অফিসের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার শফিকুল ইসলাম জানান, যশোর থেকে আসা প্রধান লাইনের পাশাপাশি উপজেলার অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ লাইনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় তার ছিঁড়ে গেছে এবং খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বেশ সময় লাগবে।

স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।