বাংলাদেশি পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগে আলোচিত চার ভারতীয় নাগরিক দীর্ঘ এক বছরের আইনি জটিলতা শেষে নিজ দেশে ফিরেছেন। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে বুধবার (৯ জুলাই) তাদের বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফেরত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সোনামসজিদ স্থলবন্দর সীমান্ত অতিক্রম করে পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার মাহাদিপুর আন্তর্জাতিক স্থলসীমান্ত দিয়ে চার ভারতীয় নাগরিকের প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করে ভারতীয় প্রশাসন।
ফিরে আসা চারজন হলেন পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার পাইকর এলাকার বাসিন্দা সুইটি বিবি, তার দুই নাবালক সন্তান এবং দানেশ শেখ।
জানা গেছে, বীরভূমের বাসিন্দা হলেও সুইটি বিবির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দিল্লিতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে বাংলাদেশি সন্দেহে দিল্লির কে.এন. কাটজু মার্গ থানার পুলিশ সুইটি বিবি, তার দুই সন্তান, প্রতিবেশী দানেশ শেখ, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনালী বিবি এবং তাদের এক সন্তানসহ মোট ছয়জনকে আটক করে। পরে তাদের আসাম সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
বাংলাদেশে প্রবেশের পর অনুপ্রবেশের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। আদালতের নির্দেশে তারা কারাগারে বন্দি ছিলেন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, নাগরিকত্ব যাচাই বা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই ওই ছয়জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সুইটি বিবি ও সোনালী বিবির পরিবার প্রথমে কলকাতা হাইকোর্টে এবং পরে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে মানবিক বিবেচনায় বাংলাদেশের আদালতের নির্দেশে অন্তঃসত্ত্বা সোনালী বিবি এবং তার পুত্রসন্তান সাবির ভারতে ফেরার অনুমতি পান। তবে সুইটি বিবি, তার দুই সন্তান এবং দানেশ শেখ বাংলাদেশের কারাগারেই ছিলেন।
পরে গত ২২ মে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বাংলাদেশে পাঠানো ওই চারজন ভারতীয় নাগরিক। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় বুধবার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের সোনামসজিদ-মাহাদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে চারজনকে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।




















