১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

শার্শায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য উৎপাদনের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:৫৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ৫৩০

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামে একটি বেকারি কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের উপকরণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব খাদ্যপণ্য বাজারজাত হওয়ায় বিভিন্ন বয়সী ভোক্তা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসতপুর বড়কলনি মোড় সংলগ্ন একটি বাসাবাড়ির ভেতরে পরিচালিত “রিয়াদ ফুড” নামে একটি বেকারিতে বিস্কুট, রুটি, কেকসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে খাদ্য তৈরিতে নিম্নমানের পাম তেল, ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও বিভিন্ন ধরনের রং ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করে খালি পায়ে এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পোশাক ছাড়াই কাজ করতে দেখা গেছে। রান্না ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত কড়াই, ট্রে এবং অন্যান্য সরঞ্জামও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ডালডা দিয়ে তৈরি ক্রিম খোলা পাত্রে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, যেখানে মাছির উপদ্রব দেখা গেছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, উৎপাদিত বনরুটি, পাউরুটি, কেক ও বিস্কুটসহ বিভিন্ন পণ্যে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ কিংবা প্রয়োজনীয় লেবেল উল্লেখ না করেই বাজারজাত করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের নজর এড়াতে একটি আবাসিক বাড়ির ভেতরে গোপনে বেকারির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর নজরদারির অভাবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নমানের কাঁচামাল, ভেজাল কেমিক্যাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত খাদ্য দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে খাদ্যে বিষক্রিয়া, লিভার ও কিডনির জটিলতা, পরিপাকতন্ত্রের নানা সমস্যা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে “রিয়াদ ফুড”-এর মালিক মো. খোকন বলেন, তিনি একজন ছোট ব্যবসায়ী। সব নিয়মকানুন শতভাগ মেনে চলা তার পক্ষে কঠিন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অনেক বড় কারখানার অবস্থাও এর চেয়ে ভালো নয়। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার পৃথক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শেফালী খাতুন বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত অভিযান পরিচালনা, বেকারির পরিবেশ ও খাদ্যের মান পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

বেনাপোলে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই জখম

শার্শায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বেকারি পণ্য উৎপাদনের অভিযোগ

আপডেট: ১১:৫৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামে একটি বেকারি কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের উপকরণ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি এসব খাদ্যপণ্য বাজারজাত হওয়ায় বিভিন্ন বয়সী ভোক্তা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বসতপুর বড়কলনি মোড় সংলগ্ন একটি বাসাবাড়ির ভেতরে পরিচালিত “রিয়াদ ফুড” নামে একটি বেকারিতে বিস্কুট, রুটি, কেকসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটিতে খাদ্য তৈরিতে নিম্নমানের পাম তেল, ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও বিভিন্ন ধরনের রং ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া শ্রমিকদের স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ না করে খালি পায়ে এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা পোশাক ছাড়াই কাজ করতে দেখা গেছে। রান্না ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত কড়াই, ট্রে এবং অন্যান্য সরঞ্জামও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া ডালডা দিয়ে তৈরি ক্রিম খোলা পাত্রে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, যেখানে মাছির উপদ্রব দেখা গেছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, উৎপাদিত বনরুটি, পাউরুটি, কেক ও বিস্কুটসহ বিভিন্ন পণ্যে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ কিংবা প্রয়োজনীয় লেবেল উল্লেখ না করেই বাজারজাত করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের নজর এড়াতে একটি আবাসিক বাড়ির ভেতরে গোপনে বেকারির কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর নজরদারির অভাবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নমানের কাঁচামাল, ভেজাল কেমিক্যাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত খাদ্য দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে খাদ্যে বিষক্রিয়া, লিভার ও কিডনির জটিলতা, পরিপাকতন্ত্রের নানা সমস্যা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে “রিয়াদ ফুড”-এর মালিক মো. খোকন বলেন, তিনি একজন ছোট ব্যবসায়ী। সব নিয়মকানুন শতভাগ মেনে চলা তার পক্ষে কঠিন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অনেক বড় কারখানার অবস্থাও এর চেয়ে ভালো নয়। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার পৃথক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শেফালী খাতুন বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত অভিযান পরিচালনা, বেকারির পরিবেশ ও খাদ্যের মান পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।