লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিসে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, কমিশন ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের যথাযথ নজরদারির অভাবে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এ দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলে আসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) এইচ এম মাজহানুর রহমান ও কার্য সহকারী মো. রওশনুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার ইউনিয়নগুলোর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নেওয়া টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন তারা।
স্থানীয় প্রকল্প সভাপতি ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পিআইওর নির্দেশে প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ‘অফিস খরচ’ হিসেবে ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত টাকা কার্য সহকারী রওশনুজ্জামানকে দিতে হয়। এর পাশাপাশি মাস্টাররোলসহ বিভিন্ন খাতেও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের চাপ থাকে। ফলে অনেক প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় না।
সম্প্রতি কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টিআর, কাবিটা, কাবিখা ও কর্মসূচিসহ একাধিক প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, কয়েকটি প্রকল্পে নির্ধারিত কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। কোথাও আংশিক কাজ করেই প্রকল্প শেষ দেখানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য ও প্রকল্প সভাপতি বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাজহানুর রহমানের নির্দেশে বরাদ্দের ১৫ থেকে ১৮ শতাংশ টাকা অফিস স্টাফকে দিতে হয়। অনেক সময় মসজিদ, মন্দির ও মাদ্রাসার মতো প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ থেকেও টাকা চাওয়া হয়। ফলে প্রকল্পের পুরো কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পিআইও নিজেকে জেলা প্রশাসকের আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দেন—এমন কারণে অনেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতেও ভয় পান। তার দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে জেলার সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল হোসেন বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোরভাবে নজরদারি করতে হবে।
অনুসন্ধানে কালীগঞ্জ উপজেলা পিআইও অফিসের কার্য সহকারী মো. রওশনুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জনেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি গ্রামের বাড়িতে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। এছাড়া শাশুড়ির নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স করে নিজেই বিভিন্ন কাজ করেন বলেও অভিযোগ করেছেন তার প্রতিবেশীরা। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এইচ এম মাজহানুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আংশিক কাজ সমাপ্ত, কমিশন বাণিজ্যসহ অন্যান্য অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।




















