০১:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়কা বান-ভূমিধস, নিখোঁজ দেড় হাজার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:৪২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ হড়কা বান ও ভূমিধসে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আকস্মিক বন্যা, কাদা ও পাথরের ধসে বহু গ্রাম, সড়ক, সেতু ও স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন বলে জানা গেছে।

লাসা ও কাঠমান্ডুকে সংযুক্ত করা নেপাল-চীন সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ রসুয়াগধি ও তিব্বতের জিরোং কাউন্টি এলাকায় এ বিপর্যয় ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড় থেকে কাদা ও পাথরের বিশাল স্রোত নেমে এসে মুহূর্তের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ করে দেয়। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অংশে প্রায় ৬০০ বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিক রয়েছেন।

অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতে ২৬০ জন বিদেশিসহ মোট ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অনেকেই কৈলাশ-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন।

দুর্যোগের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের প্রাথমিক তথ্যে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার কম্পনের কথা বলা হলেও ধারণা করা হচ্ছে, এটি বড় কোনো ভূমিকম্পের পরিবর্তে হিমবাহের বিশাল অংশ ভেঙে পড়ার ফলে সৃষ্ট কম্পন হতে পারে। বরফ ও পাথরের ওই ধস নদীতে নেমে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে মিশে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।

এদিকে, তিব্বতের উজানে কৃত্রিমভাবে একটি হ্রদ আটকে থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। চীনা কর্তৃপক্ষ সেটি শনাক্ত করেছে। হ্রদটি ভেঙে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে এবং উদ্ধার অভিযানও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বর্তমানে সামরিক বাহিনী ও পুলিশের পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে পড়া হাজারো মানুষের কাছে তাবু, শুকনো খাবার ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ভারতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করছে।

সর্বাধিক পঠিত

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়কা বান-ভূমিধস, নিখোঁজ দেড় হাজার

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়কা বান-ভূমিধস, নিখোঁজ দেড় হাজার

আপডেট: ০১:৪২:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ হড়কা বান ও ভূমিধসে নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আকস্মিক বন্যা, কাদা ও পাথরের ধসে বহু গ্রাম, সড়ক, সেতু ও স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিখোঁজের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৮০০ জনের বেশি বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রী রয়েছেন বলে জানা গেছে।

লাসা ও কাঠমান্ডুকে সংযুক্ত করা নেপাল-চীন সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ রসুয়াগধি ও তিব্বতের জিরোং কাউন্টি এলাকায় এ বিপর্যয় ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাহাড় থেকে কাদা ও পাথরের বিশাল স্রোত নেমে এসে মুহূর্তের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ করে দেয়। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অংশে প্রায় ৬০০ বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিক রয়েছেন।

অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের জিরোং কাউন্টিতে ২৬০ জন বিদেশিসহ মোট ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অনেকেই কৈলাশ-মানস সরোবর যাত্রায় অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন।

দুর্যোগের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের প্রাথমিক তথ্যে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার কম্পনের কথা বলা হলেও ধারণা করা হচ্ছে, এটি বড় কোনো ভূমিকম্পের পরিবর্তে হিমবাহের বিশাল অংশ ভেঙে পড়ার ফলে সৃষ্ট কম্পন হতে পারে। বরফ ও পাথরের ওই ধস নদীতে নেমে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষের সঙ্গে মিশে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।

এদিকে, তিব্বতের উজানে কৃত্রিমভাবে একটি হ্রদ আটকে থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। চীনা কর্তৃপক্ষ সেটি শনাক্ত করেছে। হ্রদটি ভেঙে গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে এবং উদ্ধার অভিযানও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বর্তমানে সামরিক বাহিনী ও পুলিশের পাঁচ হাজারের বেশি সদস্য উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে পড়া হাজারো মানুষের কাছে তাবু, শুকনো খাবার ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ভারতসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করছে।