০৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

ভুয়া বিল-ভাউচারে আরামিট সিমেন্টের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০১:৪৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৪

চট্টগ্রামে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট পিএলসির বিরুদ্ধে সিমেন্টের কাঁচামাল কেনার নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত কোনো ক্রয়-বিক্রয় ছাড়াই ২৭টি ডিলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়।

পরে ওই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার এবং এর মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিন ঘটনায় ২৭ ডিল

দুদকের নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২০ মার্চ ইসলামী ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখার গ্রাহক আরামিট সিমেন্টের আবেদনের পর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে একটি ডিলের মাধ্যমে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কাঁচামাল কেনার কথা উল্লেখ করে ওই অর্থের লেনদেন দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো পণ্য কেনাবেচা হয়নি। ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ উত্তোলনের পর তা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনায় আরামিট সিমেন্টের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

দুদকের অনুসন্ধানে একই ধরনের আরও একাধিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে তিনটি ঘটনায় ২৭টি ডিলের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে।

বিদেশে পাচারের অভিযোগ

অভিযোগের আরও একটি অংশে বলা হয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের পর দেশের বাইরে পাঠানো হয়। ওই অর্থের একটি অংশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে সেখানে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের অনুমোদিত মামলাগুলোতে অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেন, সম্পদের তথ্য এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের বিষয় খতিয়ে দেখবে তদন্তকারী সংস্থা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং মামলার তদন্তে চূড়ান্তভাবে কী তথ্য উঠে আসে, তা পরবর্তী সময়ে নিশ্চিত হবে। দুদকের তদন্তের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও দায় নির্ধারিত হবে।

সর্বাধিক পঠিত

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়কা বান-ভূমিধস, নিখোঁজ দেড় হাজার

ভুয়া বিল-ভাউচারে আরামিট সিমেন্টের ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট: ০১:৪৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রতিষ্ঠান আরামিট সিমেন্ট পিএলসির বিরুদ্ধে সিমেন্টের কাঁচামাল কেনার নামে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকৃত কোনো ক্রয়-বিক্রয় ছাড়াই ২৭টি ডিলের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়।

পরে ওই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার এবং এর মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিন ঘটনায় ২৭ ডিল

দুদকের নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২০ মার্চ ইসলামী ব্যাংকের জুবিলী রোড শাখার গ্রাহক আরামিট সিমেন্টের আবেদনের পর ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার গ্রাহক ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের নামে একটি ডিলের মাধ্যমে ৫৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কাঁচামাল কেনার কথা উল্লেখ করে ওই অর্থের লেনদেন দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো পণ্য কেনাবেচা হয়নি। ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ উত্তোলনের পর তা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই ঘটনায় আরামিট সিমেন্টের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ব্যাংকসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ মোট ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

দুদকের অনুসন্ধানে একই ধরনের আরও একাধিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সব মিলিয়ে তিনটি ঘটনায় ২৭টি ডিলের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে।

বিদেশে পাচারের অভিযোগ

অভিযোগের আরও একটি অংশে বলা হয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর ও রূপান্তরের পর দেশের বাইরে পাঠানো হয়। ওই অর্থের একটি অংশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করে সেখানে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের অনুমোদিত মামলাগুলোতে অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেন, সম্পদের তথ্য এবং বিদেশে অর্থ স্থানান্তরের বিষয় খতিয়ে দেখবে তদন্তকারী সংস্থা।

তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং মামলার তদন্তে চূড়ান্তভাবে কী তথ্য উঠে আসে, তা পরবর্তী সময়ে নিশ্চিত হবে। দুদকের তদন্তের ভিত্তিতেই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও দায় নির্ধারিত হবে।