যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাচ্চু মিয়া ওরফে ‘রড বাচ্চু’কে শোকজ করেছে সদর উপজেলা বিএনপি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।
যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বাচ্চু মিয়াকে শোকজ করা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শোকজের জবাব পাওয়ার পর অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এদিকে সদর উপজেলা বিএনপির এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকলেও এতদিন দৃশ্যমান কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এবার দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গত ৫ আগস্টের পর বাচ্চু মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে মধ্যস্থতার নামে অর্থ আদায়, বোমাবাজি ও মাদককে প্রশ্রয় দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বাচ্চু মিয়ার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা গ্রামের রুবির স্বামী সলেমান গাজীর মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই জমি দখলমুক্ত করে দেওয়ার কথা বলে রুবির কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নেন বাচ্চু মিয়া। কিন্তু জমির বিরোধের কোনো সমাধান না করে বিষয়টি দীর্ঘদিন ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন রুবি।
পরে টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে গত ১৫ জুন রাতে রুবির বাড়িতে হামলার অভিযোগ ওঠে বাচ্চু মিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রুবি আদালতে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে বাচ্চু মিয়াসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ।
এছাড়া ওই মামলার সাক্ষী হওয়া স্থানীয় এক যুবককে অপহরণ, মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগও ওঠে বাচ্চু মিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ নিয়েও এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করতে বিভিন্ন সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। গত কোরবানির ঈদের দিনে এমন একটি ঘটনায় দুই শিশু গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি সদর উপজেলা বিএনপির নজরে আসে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বাচ্চু মিয়াকে শোকজ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সদর উপজেলা বিএনপির শোকজের সিদ্ধান্তকে তারা দলীয় শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে বাচ্চু মিয়ার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।




















