০২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরছে বিকেলে

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:১৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যেশনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে দেশে ফিরছে। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো দেশে আসবে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।

নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তারা হলেন—উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তাঁর ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার।

এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের মরদেহও শনাক্ত হয়েছে।

এর আগে গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম দফায় নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করে।

তবে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ায় বাকি সাতজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের মরদেহ দেশে ফেরানো নিয়ে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে।

নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি বলেন, তাঁর ছেলের মরদেহ এখনো শনাক্ত হয়নি। দ্রুত ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দিতে সরকারের প্রতি আকুতি জানান তিনি।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে, যাতে মরদেহগুলো বিনা খরচে নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছে দেওয়া যায়। মরদেহ গ্রহণের জন্য স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার রাতের মধ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছাতে পারে।

তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শুরুতে আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে আত্রাইয়ের ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়াও চলছে।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বাকি সাতজনের ডিএনএ ম্যাচিং সম্পন্ন হলেই দ্রুত তাদের মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

প্রবাসে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় পাড়ি দেওয়া এসব শ্রমিকের আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রিয়জনের মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন পরিবারগুলোর সদস্যরা।

সর্বাধিক পঠিত

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়কা বান-ভূমিধস, নিখোঁজ দেড় হাজার

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরছে বিকেলে

আপডেট: ১১:১৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যেশনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে দেশে ফিরছে। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৩৪০ ফ্লাইটে মরদেহগুলো দেশে আসবে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান।

নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। তারা হলেন—উদনপৈ গ্রামের মো. ফরিদ, গন্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, কলিমউদ্দিন ইসলাম, মোহন আলী ও তাঁর ছোট ভাই সুমন আলী, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার।

এ ছাড়া নিহতদের মধ্যে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলাম এবং রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মরুগ্রামের শ্যামল উদ্দিনের মরদেহও শনাক্ত হয়েছে।

এর আগে গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন। সৌদি কর্তৃপক্ষ ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে প্রথম দফায় নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করে।

তবে ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন না হওয়ায় বাকি সাতজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের মরদেহ দেশে ফেরানো নিয়ে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে।

নিহত মিনহাজের মা পারুল বিবি বলেন, তাঁর ছেলের মরদেহ এখনো শনাক্ত হয়নি। দ্রুত ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ করে দিতে সরকারের প্রতি আকুতি জানান তিনি।

আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমন্বয় করে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে, যাতে মরদেহগুলো বিনা খরচে নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছে দেওয়া যায়। মরদেহ গ্রহণের জন্য স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার রাতের মধ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছাতে পারে।

তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শুরুতে আত্রাই উপজেলার ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও বর্তমানে আত্রাইয়ের ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি মরদেহগুলো দেশে আনার প্রক্রিয়াও চলছে।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, বাকি সাতজনের ডিএনএ ম্যাচিং সম্পন্ন হলেই দ্রুত তাদের মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

প্রবাসে পরিবারের স্বপ্ন পূরণের আশায় পাড়ি দেওয়া এসব শ্রমিকের আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রিয়জনের মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন পরিবারগুলোর সদস্যরা।