০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তই কি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে অস্বস্তির কারণ? দিল্লিতে নতুন আলোচনা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৭:১২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১২

রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিল্লির কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই বছর আগে মানবিক বিবেচনায় তাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এখন ভারতের নীতিনির্ধারণী মহলের একাংশে প্রশ্ন উঠেছে—এই সিদ্ধান্তই কি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে?

দিল্লির কূটনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত দুই বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টন, বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আলোচনায় এসেছে।

তবে ভারত সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। নয়াদিল্লির দাবি, নিরাপত্তাজনিত ও মানবিক কারণে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ভারতে অবস্থান করে তিনি যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন, তা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তবে দিল্লির নীতিনির্ধারণী মহলের একাংশ মনে করছে, বাস্তব কূটনীতিতে এই ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। বরং শেখ হাসিনাকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি ভারতকে বারবার কূটনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলছে।

ভারতের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। শুরুতে এ দায়িত্ব পালন করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। পরে বিষয়টি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে যায়।

দিল্লির প্রত্যাশা ছিল, সময়ের সঙ্গে এমন একটি রাজনৈতিক সমাধান তৈরি হবে, যাতে একদিকে মানবিক অবস্থান বজায় থাকবে, অন্যদিকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কও নতুন গতি পাবে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।

এছাড়া আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভারতের কিছু পরামর্শ শেখ হাসিনা গ্রহণ করেননি বলেও দিল্লির নীতিনির্ধারণী মহলের একাংশের দাবি। দলের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তার অনড় অবস্থান ভারতের কিছু মহলে হতাশার কারণ হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে চলমান এই কূটনৈতিক বাস্তবতার গ্রহণযোগ্য সমাধান না হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আগের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না।

 

সর্বাধিক পঠিত

ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘ রিপন মিয়া

শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তই কি ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে অস্বস্তির কারণ? দিল্লিতে নতুন আলোচনা

আপডেট: ০৭:১২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিল্লির কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই বছর আগে মানবিক বিবেচনায় তাকে আশ্রয় দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এখন ভারতের নীতিনির্ধারণী মহলের একাংশে প্রশ্ন উঠেছে—এই সিদ্ধান্তই কি দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে?

দিল্লির কূটনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত দুই বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টন, বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আলোচনায় এসেছে।

তবে ভারত সরকারের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। নয়াদিল্লির দাবি, নিরাপত্তাজনিত ও মানবিক কারণে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। ভারতে অবস্থান করে তিনি যে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন, তা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তবে দিল্লির নীতিনির্ধারণী মহলের একাংশ মনে করছে, বাস্তব কূটনীতিতে এই ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। বরং শেখ হাসিনাকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতি ভারতকে বারবার কূটনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলছে।

ভারতের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। শুরুতে এ দায়িত্ব পালন করেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। পরে বিষয়টি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে যায়।

দিল্লির প্রত্যাশা ছিল, সময়ের সঙ্গে এমন একটি রাজনৈতিক সমাধান তৈরি হবে, যাতে একদিকে মানবিক অবস্থান বজায় থাকবে, অন্যদিকে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কও নতুন গতি পাবে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, সেই প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি।

এছাড়া আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে ভারতের কিছু পরামর্শ শেখ হাসিনা গ্রহণ করেননি বলেও দিল্লির নীতিনির্ধারণী মহলের একাংশের দাবি। দলের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তার অনড় অবস্থান ভারতের কিছু মহলে হতাশার কারণ হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে চলমান এই কূটনৈতিক বাস্তবতার গ্রহণযোগ্য সমাধান না হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আগের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না।