০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে মসজিদের মাইক অপসারণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক, রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৫:২৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১২

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মসজিদে আজানের জন্য ব্যবহৃত লাউডস্পিকার অপসারণকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলোর অভিযোগ, পুলিশ মৌখিকভাবে মাইক খুলে ফেলতে চাপ দিচ্ছে। তবে রাজ্য প্রশাসনের দাবি, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের দাবিতে এনসিপিআইয়ের তিন সংসদ সদস্য—সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান ও আবু তাহের খান—কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। সেখানে তারা আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আলোচনা করার কথা রয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আদালত নির্ধারিত শব্দদূষণবিধি কঠোরভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্তের পর। বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী দিনে সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ করা যাবে না।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সরকার কেবল আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের নির্দেশের পর রাজ্যের বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দির থেকে মোট ৫ হাজার ২৯৯টি লাউডস্পিকার অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ২০৩টি মসজিদ এবং ১ হাজার ৯৬টি মন্দিরের লাউডস্পিকার রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশকে জোরপূর্বক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অধিকাংশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।

অন্যদিকে, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সমাধান না হলে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হবেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনার কপি চেয়ে রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালকের (ডিজিপি) কাছে চিঠি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে সবাই প্রতিবাদের অধিকার রাখে। তবে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হওয়া উচিত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বৈত মানসিকতা পরিহার করা প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত

ভারত থেকে আমদানি করা ২.০৩ মেট্রিক টন টিয়ার গ্যাস সেল বেনাপোল বন্দর দিয়ে দেশে পৌঁছেছে

পশ্চিমবঙ্গে মসজিদের মাইক অপসারণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক, রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা

আপডেট: ০৫:২৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মসজিদে আজানের জন্য ব্যবহৃত লাউডস্পিকার অপসারণকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলোর অভিযোগ, পুলিশ মৌখিকভাবে মাইক খুলে ফেলতে চাপ দিচ্ছে। তবে রাজ্য প্রশাসনের দাবি, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের দাবিতে এনসিপিআইয়ের তিন সংসদ সদস্য—সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, খলিলুর রহমান ও আবু তাহের খান—কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। সেখানে তারা আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংবিধানপ্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আলোচনা করার কথা রয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় নতুন রাজ্য সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আদালত নির্ধারিত শব্দদূষণবিধি কঠোরভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্তের পর। বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী দিনে সর্বোচ্চ ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ করা যাবে না।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সরকার কেবল আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের নির্দেশের পর রাজ্যের বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দির থেকে মোট ৫ হাজার ২৯৯টি লাউডস্পিকার অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ২০৩টি মসজিদ এবং ১ হাজার ৯৬টি মন্দিরের লাউডস্পিকার রয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশকে জোরপূর্বক ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অধিকাংশ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।

অন্যদিকে, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সমাধান না হলে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হবেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনার কপি চেয়ে রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালকের (ডিজিপি) কাছে চিঠি দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে সবাই প্রতিবাদের অধিকার রাখে। তবে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হওয়া উচিত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বৈত মানসিকতা পরিহার করা প্রয়োজন।