০১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলের নাজির রাজীব দত্তের বিরুদ্ধে ঘুষ-দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলে কর্মরত নাজির রাজীব দত্তের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আটকে রাখা হয়। পাশাপাশি দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করার পরও তার ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। পরে বাইরে থাকা এক ব্যক্তির পরামর্শে নাজির রাজীব দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অর্থ দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টির সমাধান হয় বলে তিনি দাবি করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজীব দত্তের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে কেরানীগঞ্জ ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালেও তার বিরুদ্ধে দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় অফিস সহায়ক মাহমুদুল হাসানের সহযোগিতায় ২৫ থেকে ৩০ সদস্যের একটি দালাল চক্র পরিচালিত হতো। নামজারি, দলিলসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো বলে অভিযোগ।

এছাড়া কেরানীগঞ্জে কর্মরত অবস্থায় দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও মোহাম্মদপুরে একাধিক ফ্ল্যাট কেনার গুঞ্জনও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কেরানীগঞ্জে নানা অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলেও একই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন রাজীব দত্ত। এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে রাজীব দত্ত অভিযোগগুলো অস্বীকার না করে বলেন, “এসব বিষয় আমি আমলেই নিই না। আমার বিরুদ্ধে অনেকেই অনেক কিছু বলে। কমপক্ষে ২০ জন সাংবাদিক আমার পকেটে আছে। যা খুশি লিখুক, আমার কিছু হবে না।” তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, ভূমি অফিসে দালাল নির্ভরতা কমাতে কঠোর নজরদারি, সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুর্নীতির সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে।

এদিকে ভুক্তভোগীরা রাজীব দত্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলে দালালমুক্ত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের দাবি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষ।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে চোর সন্দেহে গণপিটুনি, গুরুতর আহত

মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলের নাজির রাজীব দত্তের বিরুদ্ধে ঘুষ-দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ

আপডেট: ১২:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলে কর্মরত নাজির রাজীব দত্তের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য, দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ না দিলে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আটকে রাখা হয়। পাশাপাশি দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করার পরও তার ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়। পরে বাইরে থাকা এক ব্যক্তির পরামর্শে নাজির রাজীব দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অর্থ দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টির সমাধান হয় বলে তিনি দাবি করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজীব দত্তের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগে কেরানীগঞ্জ ভূমি অফিসে কর্মরত থাকাকালেও তার বিরুদ্ধে দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় অফিস সহায়ক মাহমুদুল হাসানের সহযোগিতায় ২৫ থেকে ৩০ সদস্যের একটি দালাল চক্র পরিচালিত হতো। নামজারি, দলিলসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো বলে অভিযোগ।

এছাড়া কেরানীগঞ্জে কর্মরত অবস্থায় দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও মোহাম্মদপুরে একাধিক ফ্ল্যাট কেনার গুঞ্জনও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কেরানীগঞ্জে নানা অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলেও একই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন রাজীব দত্ত। এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে রাজীব দত্ত অভিযোগগুলো অস্বীকার না করে বলেন, “এসব বিষয় আমি আমলেই নিই না। আমার বিরুদ্ধে অনেকেই অনেক কিছু বলে। কমপক্ষে ২০ জন সাংবাদিক আমার পকেটে আছে। যা খুশি লিখুক, আমার কিছু হবে না।” তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টদের মতে, ভূমি অফিসে দালাল নির্ভরতা কমাতে কঠোর নজরদারি, সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হবে এবং দুর্নীতির সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেবে।

এদিকে ভুক্তভোগীরা রাজীব দত্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মোহাম্মদপুর রাজস্ব অঞ্চলে দালালমুক্ত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের দাবি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষ।