০১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

কাঁচকুড়া কলেজে ১১ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১২:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৬

রাজধানীর উত্তরখানের কাঁচকুড়া কলেজে বাড়ি ভাড়া বাবদ নজিরবিহীন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে কলেজটির অধ্যক্ষ মতলব হুসেনসহ তিন শিক্ষক গত তিন বছরে অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া হিসেবে ১১ লাখ ১৬ হাজার টাকার বেশি নিয়েছেন বলে উঠে এসেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী একজন অধ্যক্ষের বাড়ি ভাড়ার নির্ধারিত সীমা থাকলেও অধ্যক্ষ মতলব হুসেন প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার ৮৪৫ টাকা বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন, যা একজন সচিবের প্রাপ্য বাড়ি ভাড়ার চেয়েও বেশি। এ কারণে তাকে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ডিআইএর তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে অধ্যক্ষ মতলব হুসেন অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন। একই সময়ে অবসরে যাওয়া সহকারী অধ্যাপক সুধীর চন্দ্র দাস এবং প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমানও অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া গ্রহণ করেছেন। তদন্ত দল এই অর্থকে অবৈধভাবে গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তা কলেজের সাধারণ তহবিলে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

শুধু বাড়ি ভাড়ার অনিয়মই নয়, তদন্তে কলেজটিতে প্রায় পৌনে ৪ লাখ টাকার ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ছাড়া একজন প্রভাষক নিয়োগ, জমির নামজারি সংক্রান্ত জটিলতা, শিক্ষার্থীর সংকট, একাডেমিক কার্যক্রমে অনিয়ম এবং অবকাঠামোগত নানা দুর্বলতার চিত্রও উঠে এসেছে।

ডিআইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজের রেকর্ড অনুযায়ী ১ দশমিক ৪৮ একর জমি থাকলেও মাত্র ০.৩০২২ একর জমি প্রতিষ্ঠানের নামে নামজারি হয়েছে। বাকি জমি নামজারি না হওয়ায় তা বেহাত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া নিয়মিত কোর্স পরিকল্পনা, লেসন প্ল্যান, ক্লাস টেস্ট, অ্যাসাইনমেন্ট ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনায় ঘাটতি, ছাত্রীদের কমনরুমে প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাব এবং কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্টক টেকিং কমিটি না থাকার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

ডিআইএর পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিধিবহির্ভূতভাবে বাড়ি ভাড়া গ্রহণ আর্থিক অনিয়মের শামিল। অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ কলেজের তহবিলে ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি, সনদহীন শিক্ষক নিয়োগসহ অন্যান্য অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মতলব হুসেন বলেছেন, অতিরিক্ত অর্থের মধ্যে বাড়ি ভাড়ার পাশাপাশি নগরভাতা, যাতায়াত ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি দাবি করেন, অন্য একটি কলেজে চাকরির প্রস্তাব পাওয়ার পর তাকে ধরে রাখতে গভর্নিং বডি অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা অনুমোদন দিয়েছিল। ডিআইএর আপত্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও কমিটির রেজুলেশনসহ লিখিত জবাব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সর্বাধিক পঠিত

যশোরে চোর সন্দেহে গণপিটুনি, গুরুতর আহত

কাঁচকুড়া কলেজে ১১ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট: ১২:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর উত্তরখানের কাঁচকুড়া কলেজে বাড়ি ভাড়া বাবদ নজিরবিহীন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে কলেজটির অধ্যক্ষ মতলব হুসেনসহ তিন শিক্ষক গত তিন বছরে অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া হিসেবে ১১ লাখ ১৬ হাজার টাকার বেশি নিয়েছেন বলে উঠে এসেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী একজন অধ্যক্ষের বাড়ি ভাড়ার নির্ধারিত সীমা থাকলেও অধ্যক্ষ মতলব হুসেন প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার ৮৪৫ টাকা বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন, যা একজন সচিবের প্রাপ্য বাড়ি ভাড়ার চেয়েও বেশি। এ কারণে তাকে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ডিআইএর তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে অধ্যক্ষ মতলব হুসেন অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া নিয়েছেন। একই সময়ে অবসরে যাওয়া সহকারী অধ্যাপক সুধীর চন্দ্র দাস এবং প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমানও অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া গ্রহণ করেছেন। তদন্ত দল এই অর্থকে অবৈধভাবে গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তা কলেজের সাধারণ তহবিলে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

শুধু বাড়ি ভাড়ার অনিয়মই নয়, তদন্তে কলেজটিতে প্রায় পৌনে ৪ লাখ টাকার ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকির অভিযোগও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ছাড়া একজন প্রভাষক নিয়োগ, জমির নামজারি সংক্রান্ত জটিলতা, শিক্ষার্থীর সংকট, একাডেমিক কার্যক্রমে অনিয়ম এবং অবকাঠামোগত নানা দুর্বলতার চিত্রও উঠে এসেছে।

ডিআইএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজের রেকর্ড অনুযায়ী ১ দশমিক ৪৮ একর জমি থাকলেও মাত্র ০.৩০২২ একর জমি প্রতিষ্ঠানের নামে নামজারি হয়েছে। বাকি জমি নামজারি না হওয়ায় তা বেহাত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া নিয়মিত কোর্স পরিকল্পনা, লেসন প্ল্যান, ক্লাস টেস্ট, অ্যাসাইনমেন্ট ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনায় ঘাটতি, ছাত্রীদের কমনরুমে প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাব এবং কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্টক টেকিং কমিটি না থাকার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

ডিআইএর পরিচালক প্রফেসর এম এম সহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিধিবহির্ভূতভাবে বাড়ি ভাড়া গ্রহণ আর্থিক অনিয়মের শামিল। অতিরিক্ত নেওয়া অর্থ কলেজের তহবিলে ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি, সনদহীন শিক্ষক নিয়োগসহ অন্যান্য অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মতলব হুসেন বলেছেন, অতিরিক্ত অর্থের মধ্যে বাড়ি ভাড়ার পাশাপাশি নগরভাতা, যাতায়াত ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি দাবি করেন, অন্য একটি কলেজে চাকরির প্রস্তাব পাওয়ার পর তাকে ধরে রাখতে গভর্নিং বডি অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা অনুমোদন দিয়েছিল। ডিআইএর আপত্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও কমিটির রেজুলেশনসহ লিখিত জবাব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।