১২:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ‘নিখোঁজ’ ২৫০ আমদানি কনটেইনার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১১:০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫১২

চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমসের নজরদারিতে থাকা অন্তত ২৫০টি আমদানিকৃত কনটেইনারের কোনো সন্ধান মিলছে না। শুল্ক ফাঁকি, চোরাচালান ও মিথ্যা ঘোষণার সন্দেহে কনটেইনারগুলো কাস্টমসের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে’ লক করা হয়েছিল। তবে গত নয় মাস ধরে চেষ্টা করেও এসব কনটেইনারের ভৌত অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরীক্ষা না করা পর্যন্ত লক করা কনটেইনার খালাসের সুযোগ নেই। কিন্তু কনটেইনারগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা না যাওয়ায় তদন্ত, শারীরিক পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে।

চার বছরে ‘নিখোঁজ’ ২৫০ কনটেইনার

কাস্টমসের নথি অনুযায়ী, নিখোঁজ কনটেইনারগুলোর মধ্যে—

  • ২০২১ সালে: ৮৩টি
  • ২০২২ সালে: ৬১টি
  • ২০২৩ সালে: ৪০টি
  • ২০২৪ সালে: ৬৬টি

মোট নিখোঁজ কনটেইনার: ২৫০টি।

কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (এআইআর) শাখার উপ-কমিশনার তারেক মাহমুদ জানান, কনটেইনারগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে তিন থেকে চারবার লিখিতভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসেও চিঠি পাঠানো হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, বন্দরের ইয়ার্ড বড় হওয়ায় নজরদারিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার পরও আস্ত কনটেইনার নিখোঁজ হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় বন্দরের ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী বন্দরের অভ্যন্তরে থাকা আমদানিকৃত পণ্যের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। এ কারণে নিখোঁজ কনটেইনারগুলোর বিপরীতে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে কাস্টমস।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বন্দরে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র সক্রিয় থাকার কথা স্বীকার করেন।

তিনি জানান, চক্রটি ভুয়া নথিপত্র তৈরি এবং ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে বন্দর থেকে পণ্য খালাসের চেষ্টা করছে। এ চক্রকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তা, নজরদারি ব্যবস্থা এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কনটেইনারগুলোর অবস্থান শনাক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সর্বাধিক পঠিত

কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধস: ১২ জনের মৃত্যু, প্লাবিত ৩৩ ইউনিয়ন

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ‘নিখোঁজ’ ২৫০ আমদানি কনটেইনার

আপডেট: ১১:০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে কাস্টমসের নজরদারিতে থাকা অন্তত ২৫০টি আমদানিকৃত কনটেইনারের কোনো সন্ধান মিলছে না। শুল্ক ফাঁকি, চোরাচালান ও মিথ্যা ঘোষণার সন্দেহে কনটেইনারগুলো কাস্টমসের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে’ লক করা হয়েছিল। তবে গত নয় মাস ধরে চেষ্টা করেও এসব কনটেইনারের ভৌত অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরীক্ষা না করা পর্যন্ত লক করা কনটেইনার খালাসের সুযোগ নেই। কিন্তু কনটেইনারগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা না যাওয়ায় তদন্ত, শারীরিক পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে।

চার বছরে ‘নিখোঁজ’ ২৫০ কনটেইনার

কাস্টমসের নথি অনুযায়ী, নিখোঁজ কনটেইনারগুলোর মধ্যে—

  • ২০২১ সালে: ৮৩টি
  • ২০২২ সালে: ৬১টি
  • ২০২৩ সালে: ৪০টি
  • ২০২৪ সালে: ৬৬টি

মোট নিখোঁজ কনটেইনার: ২৫০টি।

কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (এআইআর) শাখার উপ-কমিশনার তারেক মাহমুদ জানান, কনটেইনারগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে তিন থেকে চারবার লিখিতভাবে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসেও চিঠি পাঠানো হলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, বন্দরের ইয়ার্ড বড় হওয়ায় নজরদারিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার পরও আস্ত কনটেইনার নিখোঁজ হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় বন্দরের ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কাস্টমস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী বন্দরের অভ্যন্তরে থাকা আমদানিকৃত পণ্যের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। এ কারণে নিখোঁজ কনটেইনারগুলোর বিপরীতে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও বন্দর কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে কাস্টমস।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বন্দরে একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্র সক্রিয় থাকার কথা স্বীকার করেন।

তিনি জানান, চক্রটি ভুয়া নথিপত্র তৈরি এবং ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে বন্দর থেকে পণ্য খালাসের চেষ্টা করছে। এ চক্রকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তা, নজরদারি ব্যবস্থা এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কনটেইনারগুলোর অবস্থান শনাক্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।