১১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের পর সালিসে অপমান, নান্দাইলে শ্বশুরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:০৩:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫১০

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সালিসে অপমান ও সামাজিক চাপে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করছেন স্বজন ও এলাকাবাসীর একাংশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মেরাকোনা গ্রামে নিজ বাড়ির পেছনের একটি আমগাছের ডাল থেকে সোহরাব উদ্দিন (৬০) নামে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে সোহরাব উদ্দিনের পুত্রবধূ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গেলে তাকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে শ্বশুরের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরদিন পুত্রবধূ স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান এবং সেখান থেকে নান্দাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সোহরাব উদ্দিনের বাড়ির সামনে একটি সালিস বৈঠক বসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেখানে তাকে তীব্র ভর্ৎসনা করা হয় এবং জরিমানার পাশাপাশি জমিজমা চার ছেলের নামে লিখে দিয়ে বাড়ি ছাড়ার কথাও বলা হয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী বুধবার আবারও সালিস বসার কথা ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার থেকে সোহরাব উদ্দিন নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পেছনের আমগাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “আমার স্ত্রী আমাকে জানিয়েই বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিল। পরে দরবারে বাবাকে ডেকে নিয়ে শাসন করা হয়। আবার সালিস হবে শুনে বাবা বাড়ি ছেড়ে যান। পরে আমগাছের ডালে তার লাশ পাওয়া যায়।”

সালিসে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া মিল্টন, স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য বাবুলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা না গেলেও মেম্বার বাবুল সালিস হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন,

“নারীর অভিযোগ ছিল, রাতে দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে মারধর করে। গ্রামে এ নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকায় সোহরাবকে শাসন করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল—হয় তিনি বাড়িতে থাকবেন, না হয় ছেলেরা।”

পুত্রবধূর অভিযোগ তদন্তকারী নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ জানান, অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে বাদীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি রহস্যজনক। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গুরুত্বপূর্ণএ ঘটনায় এখনো কোনো আদালতের রায় হয়নি। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগটি তদন্তাধীন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণও ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর করবে।

সর্বাধিক পঠিত

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ‘নিখোঁজ’ ২৫০ আমদানি কনটেইনার

পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের পর সালিসে অপমান, নান্দাইলে শ্বশুরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আপডেট: ১০:০৩:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সালিসে অপমান ও সামাজিক চাপে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করছেন স্বজন ও এলাকাবাসীর একাংশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মেরাকোনা গ্রামে নিজ বাড়ির পেছনের একটি আমগাছের ডাল থেকে সোহরাব উদ্দিন (৬০) নামে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে সোহরাব উদ্দিনের পুত্রবধূ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গেলে তাকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে শ্বশুরের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরদিন পুত্রবধূ স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান এবং সেখান থেকে নান্দাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সোহরাব উদ্দিনের বাড়ির সামনে একটি সালিস বৈঠক বসে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেখানে তাকে তীব্র ভর্ৎসনা করা হয় এবং জরিমানার পাশাপাশি জমিজমা চার ছেলের নামে লিখে দিয়ে বাড়ি ছাড়ার কথাও বলা হয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগামী বুধবার আবারও সালিস বসার কথা ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার থেকে সোহরাব উদ্দিন নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে বাড়ির পেছনের আমগাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

নিহতের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া বলেন, “আমার স্ত্রী আমাকে জানিয়েই বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিল। পরে দরবারে বাবাকে ডেকে নিয়ে শাসন করা হয়। আবার সালিস হবে শুনে বাবা বাড়ি ছেড়ে যান। পরে আমগাছের ডালে তার লাশ পাওয়া যায়।”

সালিসে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া মিল্টন, স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য বাবুলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা না গেলেও মেম্বার বাবুল সালিস হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন,

“নারীর অভিযোগ ছিল, রাতে দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তি তার মুখ চেপে ধরে মারধর করে। গ্রামে এ নিয়ে নানা গুঞ্জন থাকায় সোহরাবকে শাসন করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল—হয় তিনি বাড়িতে থাকবেন, না হয় ছেলেরা।”

পুত্রবধূর অভিযোগ তদন্তকারী নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ জানান, অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে বাদীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি রহস্যজনক। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গুরুত্বপূর্ণএ ঘটনায় এখনো কোনো আদালতের রায় হয়নি। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগটি তদন্তাধীন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণও ময়নাতদন্ত ও পুলিশের তদন্তের ওপর নির্ভর করবে।