১২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

দুই সপ্তাহে প্রবাসে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল সিলেটের ৯ যুবকের,

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৪

উন্নত জীবনের স্বপ্ন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো আর আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় বিদেশে পাড়ি জমান হাজারো সিলেটি। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই অনেকের জীবনের ইতি ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। দিনদিন প্রবাসের মাটিতে সিলেটি শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় সিলেটের অন্তত ৯ জন প্রবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে তাদের পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায়। কাজে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী যুবক নিহত হন। নিহতরা হলেন ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আবদুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ, মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের কাদির আহমদ

গত ৩০ জুন তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছালে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী।

স্বজনদের ভাষ্য, চার বছর আগে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় কাতারে গিয়েছিলেন কাদির আহমদ। আগামী মাসেই দেশে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু জীবিত নয়, কফিনবন্দি মরদেহ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে।

আরেক নিহত জুবায়ের আহমদের পরিবারের ট্র্যাজেডি আরও বেদনাদায়ক। মাত্র দুই মাস আগে ছুটি কাটিয়ে তিনি আবার কাতারে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন। প্রায় এক যুগ আগে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবা মড়া মিয়াও প্রাণ হারিয়েছিলেন। বাবার মতো একই পরিণতি বরণ করতে হলো ছেলেকেও।

জুবায়ের আহমদের বোনজামাই নাজমুল ইসলাম বলেন, “পরিবারটি আগেও আর্থিকভাবে অসহায় ছিল। ঋণ করে জুবায়ের একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন। বিদেশে গিয়ে সেই ঋণ শোধ করার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু এখন ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা, পরিবারে উপার্জনের মতো আর কেউ নেই।”

স্থানীয়দের মতে, নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের মৃত্যুতে শুধু একটি প্রাণই ঝরে যায়নি, ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি। অনেক পরিবার এখন সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ নিয়েও চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

স্বজনদের দাবি, নিহত প্রবাসীদের পরিবারকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হোক। পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সর্বাধিক পঠিত

কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধস: ১২ জনের মৃত্যু, প্লাবিত ৩৩ ইউনিয়ন

দুই সপ্তাহে প্রবাসে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল সিলেটের ৯ যুবকের,

আপডেট: ১০:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

উন্নত জীবনের স্বপ্ন, পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো আর আর্থিক স্বচ্ছলতার আশায় বিদেশে পাড়ি জমান হাজারো সিলেটি। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথেই অনেকের জীবনের ইতি ঘটছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। দিনদিন প্রবাসের মাটিতে সিলেটি শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সর্বশেষ গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় সিলেটের অন্তত ৯ জন প্রবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে। একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের হারিয়ে তাদের পরিবারগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে।

সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায়। কাজে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় কানাইঘাট উপজেলার পাঁচ প্রবাসী যুবক নিহত হন। নিহতরা হলেন ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আবদুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের মস্তাক আহমদ, মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের কাদির আহমদ

গত ৩০ জুন তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছালে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী।

স্বজনদের ভাষ্য, চার বছর আগে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতির আশায় কাতারে গিয়েছিলেন কাদির আহমদ। আগামী মাসেই দেশে ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু জীবিত নয়, কফিনবন্দি মরদেহ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে।

আরেক নিহত জুবায়ের আহমদের পরিবারের ট্র্যাজেডি আরও বেদনাদায়ক। মাত্র দুই মাস আগে ছুটি কাটিয়ে তিনি আবার কাতারে কর্মস্থলে ফিরেছিলেন। প্রায় এক যুগ আগে সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাবা মড়া মিয়াও প্রাণ হারিয়েছিলেন। বাবার মতো একই পরিণতি বরণ করতে হলো ছেলেকেও।

জুবায়ের আহমদের বোনজামাই নাজমুল ইসলাম বলেন, “পরিবারটি আগেও আর্থিকভাবে অসহায় ছিল। ঋণ করে জুবায়ের একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন। বিদেশে গিয়ে সেই ঋণ শোধ করার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু এখন ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা, পরিবারে উপার্জনের মতো আর কেউ নেই।”

স্থানীয়দের মতে, নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের মৃত্যুতে শুধু একটি প্রাণই ঝরে যায়নি, ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি। অনেক পরিবার এখন সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ নিয়েও চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

স্বজনদের দাবি, নিহত প্রবাসীদের পরিবারকে দ্রুত আর্থিক সহায়তা, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হোক। পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।