বেনাপোল প্রতিনিধি:
যশোর-১ (শার্শা) আসনের উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জাতীয় সংসদ সদস্য সাবেরা নাজমুল বলেছেন, শার্শা ও বেনাপোল অঞ্চলের শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টায় বেনাপোল পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্থানীয় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত শার্শা ও বেনাপোল এলাকার উন্নয়ন তদারকি এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বেনাপোল পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি নাসিমুল গনি পল্টুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত-এর সঞ্চালনায় সভায় শার্শা ও বেনাপোল অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সমস্যা নিরসন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের গতিশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেরা নাজমুল বলেন, “ঝিকরগাছা ও শার্শার দায়িত্বপ্রাপ্ত এমপি হিসেবে আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে আমরা কাজ করব। বিশেষ করে শিক্ষা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে। স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, বেনাপোল পৌরসভার পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বর্ষা মৌসুম শেষে ঐতিহ্যবাহী হাকর নদী পুনঃখননের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং নাগরিকরা দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
দলীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “দলের মধ্যে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থাকতেই পারে। কিন্তু কোনোভাবেই বিভেদ বা বিভাজন সৃষ্টি করা যাবে না। অভ্যন্তরীণ কোন্দল আমাদের সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করে দেয়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের জন্য কাজ করতে হবে।”
বক্তব্যের শুরুতে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং খালেদা জিয়া-এর সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। পাশাপাশি ‘জুলাই বিপ্লব’-এ নিহত ও আহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সভায় বক্তব্য দেন বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল দলের ভেতরে বিভাজন সৃষ্টি করে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি শার্শার উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায়ও অনেক নেতাকর্মীকে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ, ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুন্নবি মুরাদ, দপ্তর সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সোহাগ, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হাসান সুমন, ঝিকরগাছা উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত কল্লোল, বেনাপোল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইছাহাক মিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সবুর হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শহিদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।




















