১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

মানিকগঞ্জে  চার বছর  শিশুকে ফলের প্রলোভনে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৭

মানিকগঞ্জের ঘিওরে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ফলের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আব্দুল গনি (৬০) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সোমবার (৬ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার বাদী হয়ে ঘিওর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত আব্দুল গনি ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের উত্তর তরা এলাকার মৃত গেতা মিয়ার ছেলে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার উত্তর তরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, ওই দিন তিনি উত্তর তরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া তার বড় মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিল তার ৪ বছরের ছোট মেয়েটিও।

তিনি ছোট মেয়েকে বিদ্যালয়ের বারান্দায় রেখে বড় মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে শ্রেণিকক্ষে যান। কক্ষ থেকে বের হয়ে তিনি ছোট মেয়েকে আর যথাস্থানে দেখতে পাননি। চারদিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বড় মেয়ে দেখতে পায়, অভিযুক্ত আব্দুল গনি মিয়ার কোলে বসে আছে তার ছোট বোন এবং তার হাতে একটি পিস ফল দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার আরও জানায়, স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পর শিশুটি তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার প্রস্রাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে পরদিন (২৭ জুন) শিশুটিকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরিবারকে জানান যে, শিশুটি নির্মম যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সমাজের একটি স্বার্থান্বেষী চক্র বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে। তবে ঘটনার নির্মমতা ও স্পর্শকাতরতা অনুধাবন করে এলাকার সচেতন নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ফলে অপরাধীর পক্ষ নেওয়া চক্রটির অপচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি তিনি স্থানীয়ভাবে শুনেছেন। ভুক্তভোগীর মা-বাবাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না, তবে অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান:ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সর্বাধিক পঠিত

শার্শা-বেনাপোলে শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়নের ঘোষণা এমপি সাবেরা নাজমুলের

মানিকগঞ্জে  চার বছর  শিশুকে ফলের প্রলোভনে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

আপডেট: ১০:৫০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

মানিকগঞ্জের ঘিওরে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ফলের প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে আব্দুল গনি (৬০) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সোমবার (৬ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার বাদী হয়ে ঘিওর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত আব্দুল গনি ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের উত্তর তরা এলাকার মৃত গেতা মিয়ার ছেলে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৬ জুন মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার উত্তর তরা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুর মা জানান, ওই দিন তিনি উত্তর তরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া তার বড় মেয়েকে নিয়ে স্কুলে গিয়েছিলেন। সঙ্গে ছিল তার ৪ বছরের ছোট মেয়েটিও।

তিনি ছোট মেয়েকে বিদ্যালয়ের বারান্দায় রেখে বড় মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে শ্রেণিকক্ষে যান। কক্ষ থেকে বের হয়ে তিনি ছোট মেয়েকে আর যথাস্থানে দেখতে পাননি। চারদিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বড় মেয়ে দেখতে পায়, অভিযুক্ত আব্দুল গনি মিয়ার কোলে বসে আছে তার ছোট বোন এবং তার হাতে একটি পিস ফল দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগীর পরিবার আরও জানায়, স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পর শিশুটি তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তার প্রস্রাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে পরদিন (২৭ জুন) শিশুটিকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরিবারকে জানান যে, শিশুটি নির্মম যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সমাজের একটি স্বার্থান্বেষী চক্র বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে। তবে ঘটনার নির্মমতা ও স্পর্শকাতরতা অনুধাবন করে এলাকার সচেতন নাগরিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ফলে অপরাধীর পক্ষ নেওয়া চক্রটির অপচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনাটি তিনি স্থানীয়ভাবে শুনেছেন। ভুক্তভোগীর মা-বাবাকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না, তবে অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

ঘিওর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান জানান:ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”