১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

চূড়ান্ত পর্যায়ে যশোর-বেনাপোল রেললাইন ডাবল ট্র্যাকিংয়ের সম্ভাব্যতা যাচাই, বদলে যাবে বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ১০:৫৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • ৫১২

বাংলাদেশ রেলওয়ের যশোর-বেনাপোল রেললাইন ডাবলকরণ (ডাবল ট্র্যাকিং) প্রকল্পের সম্ভাব্যতা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) যাচাই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই সমীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের পর সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশ-ভারত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বেনাপোলের সাথে দেশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে নতুন ট্রেন চালু করে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে শক্তিশালী কানেক্টিভিটি তৈরি হবে।

রেলওয়ের উচ্চপর্যায়ের ফিজিবিলিটি স্টাডি টিমের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি দুই দিনব্যাপী দলটি বেনাপোল রেলস্টেশন, যশোর রেলওয়ে জংশন, রেললাইন, বিভিন্ন অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, ভূমি, সেতু ও পুনর্বাসনসংক্রান্ত বিষয়গুলোও তারা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

যশোর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দল প্রথমে বেনাপোল স্টেশন ও রেল অবকাঠামো পরিদর্শন করে এবং পরদিন যশোর রেলওয়ে জংশন ও পুরো রেলপথ ঘুরে দেখেন।

বর্তমানে যশোর-বেনাপোল রুটটি একক (সিঙ্গেল) লাইনে পরিচালিত হওয়ায় বিপরীতমুখী ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে স্টেশনে ক্রসিংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ডাবল ট্র্যাক নির্মাণ হলে এই অপেক্ষা আর থাকবে না। ফলে ঢাকা-যশোর-বেনাপোল রুটে ট্রেনের যাত্রাসময় প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট কমে আসবে এবং ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় বা লেট হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে আসবে।

একই সঙ্গে লাইনের ধারণক্ষমতা (লাইন ক্যাপাসিটি) বাড়বে। ফলে ঢাকা, খুলনা, উত্তরবঙ্গ ও চট্টগ্রাম থেকে বেনাপোলগামী নতুন আন্তঃনগর ও যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর সুযোগ তৈরি হবে। এতে ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের টিকিট সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।

বেনাপোল দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হওয়ায় প্রতিদিন ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী ট্রেন এ পথে চলাচল করে। ডাবল লাইন চালু হলে পণ্যবাহী ট্রেনগুলোকে আর ক্রসিংয়ের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না; সরাসরি বন্দরে প্রবেশ ও দ্রুত ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ব্যবসায়ীদের ডেমারেজ (বিলম্ব মাশুল) কমবে। সড়কপথের তুলনায় রেলে পণ্য পরিবহন অনেক সাশ্রয়ী হওয়ায় আমদানি-রপ্তানির সামগ্রিক ব্যয় হ্রাস পাবে, যার সুফল সরাসরি সাধারণ ভোক্তারা পাবেন।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, যশোর-বেনাপোল রুটটি আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগের (যেমন: ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডাবল লাইন নির্মিত হলে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং রেল সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-যশোর রুটে যে গতি এসেছে, যশোর-বেনাপোল ডাবল ট্র্যাক নির্মাণ হলে সেই সুবিধার পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে ‘কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রিপারেটরিFacility’র অধীনে কাজ করছে। প্রকল্পের আওতায় যশোর থেকে বেনাপোল পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার রুটে বিদ্যমান লাইনের পাশেই নতুন একটি ব্রডগেজ লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে রেলওয়ের নিজস্ব মালিকানাধীন জমি সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে বিধায় নতুন করে খুব বেশি ফসলি জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না। তবে স্টেশন এলাকা সম্প্রসারণ, লুপ লাইন উন্নয়ন এবং কিছু বাঁক (কার্ভ) সোজা করার জন্য সীমিত পরিসরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর বিদ্যমান পুরোনো রেলসেতুটি। ডাবল ট্র্যাক চালুর জন্য বিদ্যমান সেতুর সমান্তরালে আরেকটি নতুন ও আধুনিক ব্রডগেজ রেলসেতু নির্মাণ করতে হবে। বর্তমানে সমীক্ষা দল এই সেতুর নকশা এবং নদের নাব্যতা বজায় রেখে কীভাবে পিলার স্থাপন করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে।

ঝিকরগাছা রেল স্টেশন ও সংলগ্ন বাজার এলাকায় রেলওয়ের জায়গার ভেতরে কিছু অবৈধ স্থাপনা ও জনবসতি রয়েছে। এছাড়া বাঁক সোজা করার জন্য কিছু বেসরকারি জায়গা অধিগ্রহণের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। বাজার ও জনবসতির ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে কীভাবে নকশা চূড়ান্ত করা যায়, তা যাচাই করছেন পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞরা। রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্তদের সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন নীতিমালার আওতায় এনে ক্ষতিপূরণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে, যেন কাজের শুরুতে কোনো সামাজিক বা আইনি জটিলতা তৈরি না হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এই প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু হয়। বর্তমান ফিজিবিলিটি স্টাডি টিমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (বিপণন ও কর্পোরেট পরিকল্পনা) বেনুরঞ্জন সরকার এবং তিনজন বিদেশি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।

যশোর রেলওয়ে জংশন পরিদর্শনে এসে হাবিবুর রহমান বলেন,”যশোর-বেনাপোল রেললাইন ডাবলকরণ প্রকল্প বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়িত হলে বেনাপোল বন্দরকেন্দ্রিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। যাত্রীপ্রাপ্তি সাপেক্ষে ভবিষ্যতে বেনাপোল-খুলনা-মোংলা রুটে সারাদিন কমিউটার ট্রেন, ঢাকা-বেনাপোল আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা ও গতি বৃদ্ধি এবং রাজশাহী ও চিলাহাটি পর্যন্ত নতুন রেল যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন জমার পরই অর্থায়ন, মূল নির্মাণকাজের পরিকল্পনা ও নকশা অনুমোদনের চূড়ান্ত রূপরেখা অনুযায়ী সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

সর্বাধিক পঠিত

শার্শা-বেনাপোলে শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে ব্যাপক উন্নয়নের ঘোষণা এমপি সাবেরা নাজমুলের

চূড়ান্ত পর্যায়ে যশোর-বেনাপোল রেললাইন ডাবল ট্র্যাকিংয়ের সম্ভাব্যতা যাচাই, বদলে যাবে বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ

আপডেট: ১০:৫৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ রেলওয়ের যশোর-বেনাপোল রেললাইন ডাবলকরণ (ডাবল ট্র্যাকিং) প্রকল্পের সম্ভাব্যতা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) যাচাই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই সমীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের পর সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বেনাপোল স্থলবন্দর হয়ে বাংলাদেশ-ভারত যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বেনাপোলের সাথে দেশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে নতুন ট্রেন চালু করে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে শক্তিশালী কানেক্টিভিটি তৈরি হবে।

রেলওয়ের উচ্চপর্যায়ের ফিজিবিলিটি স্টাডি টিমের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি দুই দিনব্যাপী দলটি বেনাপোল রেলস্টেশন, যশোর রেলওয়ে জংশন, রেললাইন, বিভিন্ন অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, ভূমি, সেতু ও পুনর্বাসনসংক্রান্ত বিষয়গুলোও তারা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন।

যশোর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দল প্রথমে বেনাপোল স্টেশন ও রেল অবকাঠামো পরিদর্শন করে এবং পরদিন যশোর রেলওয়ে জংশন ও পুরো রেলপথ ঘুরে দেখেন।

বর্তমানে যশোর-বেনাপোল রুটটি একক (সিঙ্গেল) লাইনে পরিচালিত হওয়ায় বিপরীতমুখী ট্রেন চলাচলের ক্ষেত্রে স্টেশনে ক্রসিংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ডাবল ট্র্যাক নির্মাণ হলে এই অপেক্ষা আর থাকবে না। ফলে ঢাকা-যশোর-বেনাপোল রুটে ট্রেনের যাত্রাসময় প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট কমে আসবে এবং ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় বা লেট হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে আসবে।

একই সঙ্গে লাইনের ধারণক্ষমতা (লাইন ক্যাপাসিটি) বাড়বে। ফলে ঢাকা, খুলনা, উত্তরবঙ্গ ও চট্টগ্রাম থেকে বেনাপোলগামী নতুন আন্তঃনগর ও যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর সুযোগ তৈরি হবে। এতে ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের টিকিট সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।

বেনাপোল দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর হওয়ায় প্রতিদিন ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্যবাহী ট্রেন এ পথে চলাচল করে। ডাবল লাইন চালু হলে পণ্যবাহী ট্রেনগুলোকে আর ক্রসিংয়ের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না; সরাসরি বন্দরে প্রবেশ ও দ্রুত ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে ব্যবসায়ীদের ডেমারেজ (বিলম্ব মাশুল) কমবে। সড়কপথের তুলনায় রেলে পণ্য পরিবহন অনেক সাশ্রয়ী হওয়ায় আমদানি-রপ্তানির সামগ্রিক ব্যয় হ্রাস পাবে, যার সুফল সরাসরি সাধারণ ভোক্তারা পাবেন।

রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, যশোর-বেনাপোল রুটটি আন্তর্জাতিক রেল যোগাযোগের (যেমন: ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডাবল লাইন নির্মিত হলে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং রেল সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু চালুর পর ঢাকা-যশোর রুটে যে গতি এসেছে, যশোর-বেনাপোল ডাবল ট্র্যাক নির্মাণ হলে সেই সুবিধার পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে ‘কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রিপারেটরিFacility’র অধীনে কাজ করছে। প্রকল্পের আওতায় যশোর থেকে বেনাপোল পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার রুটে বিদ্যমান লাইনের পাশেই নতুন একটি ব্রডগেজ লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে রেলওয়ের নিজস্ব মালিকানাধীন জমি সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে বিধায় নতুন করে খুব বেশি ফসলি জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না। তবে স্টেশন এলাকা সম্প্রসারণ, লুপ লাইন উন্নয়ন এবং কিছু বাঁক (কার্ভ) সোজা করার জন্য সীমিত পরিসরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ওপর বিদ্যমান পুরোনো রেলসেতুটি। ডাবল ট্র্যাক চালুর জন্য বিদ্যমান সেতুর সমান্তরালে আরেকটি নতুন ও আধুনিক ব্রডগেজ রেলসেতু নির্মাণ করতে হবে। বর্তমানে সমীক্ষা দল এই সেতুর নকশা এবং নদের নাব্যতা বজায় রেখে কীভাবে পিলার স্থাপন করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে।

ঝিকরগাছা রেল স্টেশন ও সংলগ্ন বাজার এলাকায় রেলওয়ের জায়গার ভেতরে কিছু অবৈধ স্থাপনা ও জনবসতি রয়েছে। এছাড়া বাঁক সোজা করার জন্য কিছু বেসরকারি জায়গা অধিগ্রহণের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। বাজার ও জনবসতির ক্ষতি যতটা সম্ভব কমিয়ে কীভাবে নকশা চূড়ান্ত করা যায়, তা যাচাই করছেন পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞরা। রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্তদের সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন নীতিমালার আওতায় এনে ক্ষতিপূরণ ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে, যেন কাজের শুরুতে কোনো সামাজিক বা আইনি জটিলতা তৈরি না হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে এই প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি শুরু হয়। বর্তমান ফিজিবিলিটি স্টাডি টিমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (বিপণন ও কর্পোরেট পরিকল্পনা) বেনুরঞ্জন সরকার এবং তিনজন বিদেশি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।

যশোর রেলওয়ে জংশন পরিদর্শনে এসে হাবিবুর রহমান বলেন,”যশোর-বেনাপোল রেললাইন ডাবলকরণ প্রকল্প বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়িত হলে বেনাপোল বন্দরকেন্দ্রিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। যাত্রীপ্রাপ্তি সাপেক্ষে ভবিষ্যতে বেনাপোল-খুলনা-মোংলা রুটে সারাদিন কমিউটার ট্রেন, ঢাকা-বেনাপোল আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা ও গতি বৃদ্ধি এবং রাজশাহী ও চিলাহাটি পর্যন্ত নতুন রেল যোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন জমার পরই অর্থায়ন, মূল নির্মাণকাজের পরিকল্পনা ও নকশা অনুমোদনের চূড়ান্ত রূপরেখা অনুযায়ী সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।