ব্যবসায়ী পরিচয়ে বিশ্বাস অর্জন করে যশোরের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিন সদস্যের একটি প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোর। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন, খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলা বরনপাড়া এলাকার দাউদ সরদারের ছেলে মনিরুল ইসলাম (৪০), গফুর মোল্লার ছেলে হাফিজুর রহমান মোল্যা (৪৭) এবং একই এলাকার হাযদার আলীর ছেলে ইমতিয়াল আহমেদ ওরফে সুজা (৩০)।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ জুলাই) ভোররাতে খুলনার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, যশোর শহরের কদমতলা এলাকার ব্যবসায়ী মো. ইকবাল হোসেন ‘মোহনা টাইপ রাইটার সার্ভিস’ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফটোকপি মেশিনের যন্ত্রাংশ বিক্রি ও মেরামতের ব্যবসা করেন। কয়েক মাস আগে ব্যবসায়িক কাজে খুলনায় গিয়ে তার সঙ্গে গ্রেপ্তার তিনজনের পরিচয় হয়। তারা নিজেদের ফটোকপি মেশিনের যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখেন।
বিশ্বাস অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রথমে তারা ইকবাল হোসেনের দেওয়া একটি ছোট অর্ডারের যন্ত্রাংশ যথাযথভাবে সরবরাহ করেন। এতে তাদের প্রতি ইকবাল হোসেনের আস্থা তৈরি হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনজন যশোরে এসে কদমতলা এলাকার ‘মোহনা টাইপ রাইটার সার্ভিস’ প্রতিষ্ঠানে ইকবাল হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন। ব্যবসায়িক প্রয়োজনে জরুরি অর্থের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়ে এবং অর্ডার করা মালামালের মূল্যের সঙ্গে ওই অর্থ সমন্বয় করা হবে—এমন আশ্বাস দিয়ে তারা ইকবাল হোসেনের কাছ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যান।
তারা একই দিন সন্ধ্যার মধ্যে মালামাল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে আর কোনো পণ্য সরবরাহ করেননি। পরবর্তীতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। বিষয়টি বুঝতে পেরে ইকবাল হোসেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এর তদন্তের আগে কোতোয়ালি থানা-য় অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ঘটনায় ২০২৬ সালের ১৯ মে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা রুজু হয়। মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই যশোর।
পিবিআই জানায়, স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর পিবিআই যশোরের একটি বিশেষ দল খুলনার ফুলতলা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় মনিরুল ইসলামের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত দুটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পিবিআই জানিয়েছে, প্রতারণা চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং তারা একই কৌশলে অন্য কাউকে প্রতারণা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




















