নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় গভীর রাতে পাথরবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি বসতঘরে ঢুকে পড়লে ঘুমন্ত দুই বোনের ওপর পাথর চাপা পড়ে। এ ঘটনায় এক স্কুলছাত্রী নিহত এবং তার ছোট বোন আহত হয়েছে।
রোববার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নলদী গ্রামে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শামীমা আক্তার সেতু (১৪) স্থানীয় বি.এস.এস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আহত তার ছোট বোন মিতু (১২) একই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। তারা নলদী গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী হাফিজুর মোল্যার মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাতের খাবার শেষে দুই বোন নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। এ সময় খুলনা মেট্রো-শ ১১-০৫০২ নম্বরের একটি পাথরবোঝাই ট্রাক পথ ভুল করে নলদী এলাকার খালপাড়ের সরু সড়কে প্রবেশ করে। পরে হাফিজুর মোল্যার বাড়ির সামনে পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি বসতঘরের ওপর উঠে যায়। এতে ট্রাকে থাকা বিপুল পরিমাণ পাথর ঘরের ভেতরে ছিটকে পড়ে দুই বোনকে চাপা দেয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে দুই বোনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শামীমা আক্তার সেতুকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মিতুকে নড়াইল জেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তাকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
লোহাগড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক ও তার সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত এবং আটকের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুতগতির ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।




















