০৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

যশোর শহরে তিন ঘণ্টার বিশেষ তল্লাশি অভিযান, আটক কয়েকজন; অর্ধশতাধিক মামলা

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:০১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
  • ৫০৮

 

যশোর শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং সন্দেহভাজন অপরাধীদের শনাক্ত করতে তিন ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। রোববার (২২ জুন) বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পয়েন্টে একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেন। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের একাধিক টিমও মাঠে সক্রিয় ছিল। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি, চালকদের কাগজপত্র যাচাই এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এ বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের চাঁচড়া চেকপোস্ট, পালবাড়ি, ধর্মতলা, নিউমার্কেট ও মনিহার চত্বরে একযোগে এ তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়।

অভিযান চলাকালে কয়েকজনকে সন্দেহজনকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চাঁচড়া এলাকা থেকে রবিন হোসেন (পিতা- তাইজুল মোড়ল), ধোপাখোলা গ্রামের বাসিন্দাকে একটি বার্মিজ চাকুসহ আটক করা হয়। পরে তাকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। এছাড়া মনিহার এলাকা থেকে আটক দুই যুবকের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে নিউমার্কেটসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পথচারী ও যানবাহনের ওপর বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়।

যশোর ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মাহফুজুর রহমান জানান, তিন ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) রাজিবুল ইসলাম বলেন, “জুন মাসজুড়ে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের নির্দেশে রোববার বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

সর্বাধিক পঠিত

নিষিদ্ধ দলের মিছিল-সমাবেশের পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে: ডিএমপি কমিশনার

যশোর শহরে তিন ঘণ্টার বিশেষ তল্লাশি অভিযান, আটক কয়েকজন; অর্ধশতাধিক মামলা

আপডেট: ০৩:০১:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

 

যশোর শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং সন্দেহভাজন অপরাধীদের শনাক্ত করতে তিন ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। রোববার (২২ জুন) বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি পয়েন্টে একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেন। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের একাধিক টিমও মাঠে সক্রিয় ছিল। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি, চালকদের কাগজপত্র যাচাই এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এ বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের চাঁচড়া চেকপোস্ট, পালবাড়ি, ধর্মতলা, নিউমার্কেট ও মনিহার চত্বরে একযোগে এ তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়।

অভিযান চলাকালে কয়েকজনকে সন্দেহজনকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে চাঁচড়া এলাকা থেকে রবিন হোসেন (পিতা- তাইজুল মোড়ল), ধোপাখোলা গ্রামের বাসিন্দাকে একটি বার্মিজ চাকুসহ আটক করা হয়। পরে তাকে কোতোয়ালি থানায় নেওয়া হয়। এছাড়া মনিহার এলাকা থেকে আটক দুই যুবকের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে নিউমার্কেটসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পথচারী ও যানবাহনের ওপর বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়।

যশোর ট্রাফিক বিভাগের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মাহফুজুর রহমান জানান, তিন ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) রাজিবুল ইসলাম বলেন, “জুন মাসজুড়ে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের নির্দেশে রোববার বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশেষ তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”