বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনে বিজেপির কাছে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর কার্যত ক্ষমতাচ্যুত অবস্থায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস—এমন দাবি করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
ফল অনুযায়ী বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। আগামী ৯ মে (শনিবার) কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। সকাল ১০টায় ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি-এর পদত্যাগ না করার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে।
বুধবার (৬ মে) কালীঘাটে দলের বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা ব্যানার্জি স্পষ্টভাবে জানান, তিনি পদত্যাগ করবেন না। তিনি বলেন,
“আমি পদত্যাগ করবো না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। রেকর্ড থাকুক। ওরা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই, সেই দিনটি হোক একটি কালো দিন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বলেও জানান।
মমতা বলেন, নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ইঙ্গিত করেন। তার দাবি,
“আমি মানুষকে বিশ্বাস করি, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন আসল ভিলেনের ভূমিকা পালন করেছে।”
তিনি আরও জানান, শপথগ্রহণের দিন তৃণমূল কংগ্রেসের সব দলীয় কার্যালয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এছাড়া তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তিনি ও তার দলের কিছু নেতা আবার আইনজীবী হিসেবে আদালতে কাজ করতে পারেন এবং বিভিন্ন মামলায় অংশ নিতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গে একদিকে বিজেপির সরকার গঠনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রতিবাদ ও আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা—সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে।




















