পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় সহিংস ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে উত্তর চব্বিশ পরগনায় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী-এর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (স্থানীয় সময়) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মধ্যমগ্রামের দোলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা একদল দুর্বৃত্ত তার গাড়ি থামিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার সময় ঘটনাস্থলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় চন্দ্রনাথ রথকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার শরীরে দুটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে, যার একটি বুকে এবং অন্যটি পেটে লাগে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
শুভেন্দু অধিকারী এ ঘটনাকে “ঠাণ্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যা” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, হামলাকারীরা আগে থেকেই এলাকাটি রেকি করে পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেন, রাজ্য পুলিশের ডিজি তাকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তিনি সরাসরি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নাম না নিলেও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে সিদ্ধিনাথ গুপ্ত জানিয়েছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত একটি গাড়ি ইতোমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। গাড়িটির নম্বর প্লেট পরিবর্তন করে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত গুলির খোসা ও কিছু তাজা কার্তুজও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, গাড়িটির নম্বর শিলিগুড়ির একটি রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হলেও সেটি ভুয়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ঘটনার সময় চন্দ্রনাথ রথের গাড়িচালক বুদ্ধদেব বেরাও গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। তাকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপির অভিযোগ, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তাদের কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই দোষীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।




















