প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো খুলনা বিভাগ সফরে যশোরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। বিমানবন্দরে নেমেই উপস্থিত নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।
এরপর তিনি নির্ধারিত বহরে যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন। বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যশোরের জেলা প্রশাসক আশেক হাসান, জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই যশোর বিমানবন্দর এলাকা ও শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে রাস্তায় অবস্থান নেন। দলীয় পতাকা, ব্যানার ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে যশোর ও শার্শা জুড়ে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
এই সফরের মূল আকর্ষণ উলশী খাল পুনঃখনন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা খালটি পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর আজকের সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে শার্শার উলশী খাল পুনঃখনন অনুষ্ঠানস্থলে আয়োজিত সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন তিনি। এরপর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করবেন। দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে তিনি যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি পরিদর্শন করবেন।
এছাড়া বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। তার এই সফরকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর যশোর তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করবে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





















