জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী হতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়নপত্র সংগ্রহে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র তিন দিনেই প্রায় ১ হাজার ৩০০টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৯০০টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বিক্রিকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দলের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নারী নেত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষক, আইনজীবী, শিল্পীসহ বিভিন্ন পেশার নারীরা আগ্রহভরে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
মনোনয়নপ্রত্যাশী নারী নেত্রীরা জানান, গত প্রায় দেড় দশক ধরে দলের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন এবং গ্রেফতার, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন—দল তাদের মূল্যায়ন করবে বলে তারা আশাবাদী। নির্বাচিত হলে তারা জাতীয় সংসদে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এবার সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার টাকা। এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে অফেরতযোগ্য জামানত গ্রহণ করা হচ্ছে।
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংখ্যা মোট ৫০টি। সংবিধান অনুযায়ী প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, বিএনপি জোট পেতে পারে ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট পাবে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের জন্য থাকবে ১টি আসন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। ২২ ও ২৩ এপ্রিল যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হবে। আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল, যা নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল, প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ মে।





















