যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ১৭নং ইউনিয়নের কপালিয়া আবাসন প্রকল্প এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটেছে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় প্রতিবেশীদের হামলায় একই পরিবারের মা, বোন ও ভগ্নীপতি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দিপ্ত বিশ্বাস বাদী হয়ে শিবপদ সরকার, অরুপ বসু, বিজয় খুস ও শিখা রানী বসুর নাম উল্লেখ করে মণিরামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিবপদ সরকার ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় এলাকায় অসংলগ্ন আচরণ ও বিভিন্ন ধরনের উত্যক্তমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। গত ৪ এপ্রিল (শনিবার) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে দিপ্ত বিশ্বাসের পরিবারের সদস্যরা এসব আচরণের প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র ও কাঠের লাঠি নিয়ে দিপ্ত বিশ্বাসের পরিবারের ওপর হামলা চালায়। হামলায় দিপ্ত বিশ্বাসের মা মুঞ্জুরী বিশ্বাসের নাক ও ঠোঁটে ধারালো দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়। এছাড়া তার বোন নীলিমা বিশ্বাসকে মারধর করার পাশাপাশি শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে এবং তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও করা হয়।
এ সময় ভগ্নীপতি মিলন বিশ্বাস তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও কপালে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী দিপ্ত বিশ্বাস বলেন, “আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। নেশাগ্রস্তদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় তারা আমাদের পুরো পরিবারকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
এ বিষয়ে মণিরামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















