যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির ২ নং ভবনের দ্বিতীয় তলায় বাল্যবিবাহ চলাকালীন ঝটিকা অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১০টার দিকে পরিচালিত এই অভিযানে বর-কনেসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন বিয়ের আয়োজক আইনজীবী মিজানুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট কাজী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর তার এক বন্ধুকে নিয়ে সোমবার সকালে উকিল বারে আসে। সেখানে কনে হিসেবে আনা হয় স্কুল ড্রেস পরিহিত ১৫ বছরের এক কিশোরীকে। জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে এক বছর আগে তাদের পরিচয় হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের জের ধরেই তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
অভিযোগ উঠেছে, আইনজীবী মিজানুর রহমান মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এই বাল্যবিবাহের সব আয়োজন সম্পন্ন করেন। বিয়ে সম্পন্ন হওয়া মাত্রই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে হানা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাওমীদ হাসান। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত আইনজীবী ও কাজী দ্রুত সটকে পড়েন। পরে ঘটনাস্থল থেকে বর, কনে ও বরের বন্ধুকে আটক করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরবর্তীতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাওমীদ হাসান উভয় পক্ষের পরিবারকে তলব করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর আদালতের শর্ত অনুযায়ী— ছেলের বয়স ২১ এবং মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তারা নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় থাকবে। এই মর্মে উভয় পরিবারের কাছ থেকে শক্ত মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় ও আইনজীবী সমিতির সাধারণ সদস্যদের অভিযোগ, অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানসহ একটি নির্দিষ্ট চক্র দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিনিময়ে আইন অমান্য করে এ ধরনের বাল্যবিবাহের আয়োজন করে আসছেন। এই বিষয়ে বক্তব্য জানতে আইনজীবী মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সংযোগটি বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে।
বর্তমানে এই ঘটনাটি আদালত পাড়ায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে।





















