০৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

ব্যয় সংকোচনে সরকারের কঠোর নির্দেশনা: বিদেশ ভ্রমণ ও গাড়ি কেনা বন্ধ

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৩:২৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৯

ঢাকা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি ব্যয়ে কঠোর লাগাম টেনেছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে একাধিক খাতে ব্যয় কমানো, নিয়ন্ত্রণ ও স্থগিতের নির্দেশনা দিয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদেশে প্রশিক্ষণ ও যানবাহন কেনায় নিষেধাজ্ঞা নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে সরকারি অর্থ খরচ করে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদেশে কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ, সেমিনার বা ওয়ার্কশপে অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া সরকারি দপ্তরের জন্য সব ধরনের নতুন যানবাহন কেনা আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ ও আপ্যায়ন ব্যয় হ্রাস পরিপত্রে ব্যয় কমানোর নির্দিষ্ট হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে:
* আপ্যায়ন ব্যয়: বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে।
* অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ: মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত প্রশিক্ষণেও সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। তবে সরকারি মূল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন- বিপিএটিসি) এই নিয়মের বাইরে থাকবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কড়াকড়ি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও বরাদ্দ সংকুচিত করা হয়েছে:
* এসব খাতে অবশিষ্ট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ খরচ করা যাবে।
* স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই সীমার বেশি ব্যয় করলে অতিরিক্ত অর্থ ভবিষ্যতে সরকারের কাছে দাবি করা যাবে না।
নির্মাণ ও অন্যান্য খাতে নিয়ন্ত্রণ * ভবন নির্মাণ: এই খাতে ব্যয় সরাসরি অর্ধেকে (৫০ শতাংশ) নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্পের কাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো অর্থ বিভাগের বিশেষ অনুমতি নিয়ে সচল রাখা যাবে।
* সেমিনার ও কনফারেন্স: এই খাতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ব্যয় করা গেলেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের আপ্যায়ন ব্যয় অবশ্যই ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
* যন্ত্রপাতি ও ভূমি অধিগ্রহণ: কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কেনা বন্ধ থাকবে। এছাড়া পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে (উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমোদনে ছাড় থাকতে পারে)।
> “বৈশ্বিক পরিস্থিতির চাপ মোকাবিলা এবং সরকারি তহবিলের অপচয় রোধে এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।”

সর্বাধিক পঠিত

ব্যয় সংকোচনে সরকারের কঠোর নির্দেশনা: বিদেশ ভ্রমণ ও গাড়ি কেনা বন্ধ

আপডেট: ০৩:২৭:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি ব্যয়ে কঠোর লাগাম টেনেছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে একাধিক খাতে ব্যয় কমানো, নিয়ন্ত্রণ ও স্থগিতের নির্দেশনা দিয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। সরকারি ব্যয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদেশে প্রশিক্ষণ ও যানবাহন কেনায় নিষেধাজ্ঞা নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে সরকারি অর্থ খরচ করে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিদেশে কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ, সেমিনার বা ওয়ার্কশপে অংশ নিতে পারবেন না। এছাড়া সরকারি দপ্তরের জন্য সব ধরনের নতুন যানবাহন কেনা আপাতত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ ও আপ্যায়ন ব্যয় হ্রাস পরিপত্রে ব্যয় কমানোর নির্দিষ্ট হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে:
* আপ্যায়ন ব্যয়: বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে।
* অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ: মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত প্রশিক্ষণেও সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ব্যয় করা যাবে। তবে সরকারি মূল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন- বিপিএটিসি) এই নিয়মের বাইরে থাকবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কড়াকড়ি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও ভ্রমণ ব্যয়ের ক্ষেত্রেও বরাদ্দ সংকুচিত করা হয়েছে:
* এসব খাতে অবশিষ্ট বরাদ্দের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ খরচ করা যাবে।
* স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, এই সীমার বেশি ব্যয় করলে অতিরিক্ত অর্থ ভবিষ্যতে সরকারের কাছে দাবি করা যাবে না।
নির্মাণ ও অন্যান্য খাতে নিয়ন্ত্রণ * ভবন নির্মাণ: এই খাতে ব্যয় সরাসরি অর্ধেকে (৫০ শতাংশ) নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্পের কাজ ৭০ শতাংশের বেশি সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো অর্থ বিভাগের বিশেষ অনুমতি নিয়ে সচল রাখা যাবে।
* সেমিনার ও কনফারেন্স: এই খাতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ ব্যয় করা গেলেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের আপ্যায়ন ব্যয় অবশ্যই ৫০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
* যন্ত্রপাতি ও ভূমি অধিগ্রহণ: কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কেনা বন্ধ থাকবে। এছাড়া পরিচালন বাজেটের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছে (উন্নয়ন বাজেটের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমোদনে ছাড় থাকতে পারে)।
> “বৈশ্বিক পরিস্থিতির চাপ মোকাবিলা এবং সরকারি তহবিলের অপচয় রোধে এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।”