দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় যশোরসহ দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় আজ রোববার থেকে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলার টিকার পাশাপাশি অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুলও প্রদান করা হচ্ছে।
যশোর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সকাল ৯টায় সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বিরামপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার মুজিবুর রহমান। এরপর বেলা ১১টায় যশোর পৌরসভা এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিন নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৬টি কেন্দ্র ও পৌর এলাকায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এ কার্যক্রম চলবে।
যশোরের বর্তমান চিত্র
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, যশোরে বর্তমানে ১৬৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী চিহ্নিত হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জেলায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। জেলায় এই বিশেষ কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামের সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জন মারা গেছেন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ১৬ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী বিভাগে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি (৫০ জন)। বর্তমানে ৪ হাজার ৬২৮ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, সংক্রমণের তীব্রতা বিবেচনায় যশোর সদরসহ বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, চাঁদপুরের হাইমচর ও কক্সবাজারের রামুসহ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা পরামর্শ দিয়েছেন:
* সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়। যারা আগে টিকা নিতে পারেনি, তারা এখন ২৮ দিনের ব্যবধানে দুই ডোজ নিতে পারবে।
* শিশুর শরীরে জ্বর বা র্যাশ (ফুসকুড়ি) দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
* সংক্রমণ রোধে আক্রান্ত শিশুকে অন্তত ৫ দিন অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।




















