বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কুয়াকাটায় নিয়ে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে মামলা তুলে নিতে চাপ দিয়ে বিষ খাইয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সোনিয়া আক্তার দিয়া (২৫) নামে এক ভুক্তভোগী নারী। শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুতর অভিযোগ করেন।
ভুক্তভোগী সোনিয়া আক্তার দিয়া যশোরের অভয়নগর উপজেলার পোতপাড়া গ্রামের খানজাহান আলীর মেয়ে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ এই অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও চাঁদাবাজি’ হিসেবে দাবি করেছে।
লিখিত অভিযোগের সারসংক্ষেপ
সংবাদ সম্মেলনে সোনিয়া আক্তার দিয়া জানান, ২০১৪ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে যশোর শহরের চোপদারপাড়া এলাকার এহসান আহমেদ ফয়সালের সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার অভিযোগ:
: ফয়সাল তাকে কুয়াকাটায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একটি হোটেলে রাত্রিযাপন করেন এবং শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে ২০২৫ সালের ১৫ মে তিনি কোতোয়ালি থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।
: মামলা করার পর ফয়সাল তাকে বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে ফয়সাল, তার পিতা মানুয়া, মাতা ও ভগ্নিপতি রিপন তাকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। রাজি না হওয়ায় ফয়সালের পিতা তাকে জাপটে ধরেন এবং ভগ্নিপতি রিপন জোরপূর্বক বিষ খাইয়ে দেন বলে সোনিয়া দাবি করেন। এরপর ১১ সেপ্টেম্বর তিনি একটি হত্যাচেষ্টার মামলাও করেন।
: সংবাদ সম্মেলনে সোনিয়া দাবি করেন, বিএনপির এক শীর্ষ নেতার নাম ব্যবহার করে তাকে এসিড নিক্ষেপ, হত্যা বা গুমের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া তার পিতা ও ভাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং ভাইকে পুলিশ দিয়ে আটক করানোর অভিযোগও করেন তিনি।
এদিকে অভিযুক্ত ফয়সালের ভগ্নিপতি, ব্যবসায়ী আইয়াজ উদ্দিন রিপন এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তার পাল্টা বক্তব্য হলো:
> “সোনিয়া আক্তার দিয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে ফয়সালের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। টাকা না পেয়ে তিনি এখন মনগড়া অভিযোগ তুলছেন। এমনকি চাঁদা দাবির ভিডিও প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, রাজনৈতিকভাবে তাদের পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং ভয় দেখাতে যশোরের শীর্ষ এক নেতার নাম জড়িয়ে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অসংলগ্নতা
সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে ভুক্তভোগী নারী কিছুটা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন, যা উপস্থিত সংবাদকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
বর্তমানে এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ উভয় পক্ষের দায়ের করা মামলাগুলো তদন্ত করে দেখছে। সোনিয়া আক্তার দিয়া প্রশাসনের কাছে তার ও তার পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।



















