বাংলাদেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোলের আকাশ এখন এক নতুন গৌরবের সাক্ষী। দেশের জাতীয় মর্যাদা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে বেনাপোল জিরো পয়েন্টে (শূন্যরেখায়) নির্মিত হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ ১৩০ ফুট উচ্চতার সুউচ্চ পতাকাস্তম্ভ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে মাস্তুলটি দৃশ্যমান হওয়ার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
এতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পতাকাস্তম্ভটি ছিল পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে, যার উচ্চতা ১১৭ ফুট। বেনাপোলের এই নবনির্মিত ১৩০ ফুটের মাস্তুলটি এখন সেই রেকর্ড ভেঙে দেশের শীর্ষস্থান দখল করল। অন্যদিকে, ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে ২০১৭ সাল থেকে তাদের জাতীয় পতাকা উড়ছে ১০০ ফুট উচ্চতায়। এখন থেকে ভারতের সেই ফ্ল্যাগস্ট্যান্ডের চেয়েও ৩০ ফুট উঁচুতে উড়বে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা।
বেনাপোল পৌরসভার উদ্যোগে এই বিশাল স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
* মোট উচ্চতা: ১৩০ ফুট।
* নির্মাণ ব্যয়: প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
* উদ্যোক্তা: বেনাপোল পৌরসভা।
* কারিগরি বৈশিষ্ট্য: আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এখানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও নামানোর ব্যবস্থা থাকবে।
> “ভারতের পেট্রাপোল সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে ১০০ ফুট উঁচুতে তাদের পতাকা উড়ছে। আমাদের সীমান্তেও একটি বিশাল প্রতীকী স্থাপনার প্রয়োজন ছিল। তরুণ প্রজন্মের দাবি ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।”
> — ইসাহক মিয়া, ঠিকাদার ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বেনাপোল দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক যাতায়াত করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই সুউচ্চ মাস্তুলটি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের আত্মমর্যাদার প্রতীক হিসেবে নজর কাড়বে। সীমান্তে প্রবেশের পথেই আকাশচুম্বী এই লাল-সবুজ পতাকা দেখে নাগরিক ও পর্যটকদের মধ্যে দেশপ্রেমের এক নতুন জাগরণ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার বিকেলে মাস্তুলটি যখন পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়, তখন জিরো পয়েন্ট এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। অনেকেই এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করেন এবং দেশের এই নতুন অর্জনে গর্ব প্রকাশ করেন।



















