।আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাই এবং রাজধানী আবুধাবির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় আবুধাবিতে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন
শনিবার সকালে দুবাইয়ের অভিজাত এলাকা ‘দুবাই মেরিনা’ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়। দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে একটি ইরানি লক্ষ্যবস্তু মাঝ আকাশে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। তবে ধ্বংস করার পর ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু অংশ নিকটবর্তী একটি ভবনের সামনের অংশে পড়ে। এতে কোনো অগ্নিকাণ্ড বা প্রাণহানি না ঘটলেও এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আবুধাবির ‘হাবশান’ প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে চালানো হামলাটি ছিল অধিকতর ধ্বংসাত্মক। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বৃহত্তম গ্যাস কেন্দ্র।
* হতাহতের খবর: ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর এর ধ্বংসাবশেষ প্ল্যান্টে পড়লে সেখানে দুটি বড় অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। প্ল্যান্ট এলাকা খালি করার সময় হুড়োহুড়িতে এক মিসরীয় নাগরিক নিহত হন। এছাড়া দুই পাকিস্তানি ও দুই মিসরীয়সহ মোট চারজন আহত হয়েছেন।
* ক্ষয়ক্ষতি: কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে স্থাপনাটির উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে জরুরি সেবা দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মাত্রা নিরূপণে কাজ চলছে।
এর আগে গত শুক্রবারও আবুধাবিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছিলেন। সরকারি তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে সাতজন নেপালের নাগরিক, যাদের একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ‘অনুতপ্ত’ না হওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ ও পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি এখন সরাসরি তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী দেশগুলোর দিকে মোড় নেওয়ায় বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।



















