০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

সীমান্ত পাহারায় এবার ‘বিষাক্ত সরীসৃপ’: কূটনীতির নতুন ব্যাকরণে সাপ ও কুমির

  • সেন্ট্রাল ডেস্ক নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট: ০৮:৩২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৪

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কয়েক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ রেখায় পাহারার ধরনে এক অভাবনীয় ও আদিম পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ‘ড্রোন নজরদারি’ বা ‘থার্মাল ইমেজিং’-এর যুগে এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে প্রকৃতির দুই ভয়ঙ্কর শিকারি—সাপ ও কুমির। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ফেডারেল’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিএসএফের এমন পরিকল্পনার খবর প্রকাশ পাওয়ার পর দুই দেশের সীমান্ত কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিএসএফের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত রক্ষার বিকল্প হিসেবে বিষাক্ত সাপ এবং কুমির মোতায়েনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকার নদীপথ ও জলাভূমি, যেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া অসম্ভব বা ড্রোন দিয়েও শতভাগ নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন, সেখানেই এই সরীসৃপ সেনাদের নামানোর চিন্তা করা হচ্ছে। বিএসএফের ভাষায়, মানব পাচার ও চোরাচালান রোধে ‘প্রাকৃতিক বাধা’ তৈরির লক্ষ্যেই এই অভিনব পরিকল্পনা।’
পৃথিবীর ইতিহাসে সীমান্ত রক্ষার কতই না বিচিত্র উদাহরণ আছে। চীনের মহাপ্রাচীর থেকে শুরু করে বার্লিন দেয়াল—সবই ছিল মানুষের তৈরি কাঠামো। কিন্তু বিএসএফ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেয়ে প্রকৃতির ‘আদিম প্রবৃত্তির’ ওপর বেশি ভরসা করতে চাইছে। এই যেন একুশ শতকের এক নতুন ‘পঞ্চতন্ত্র’। নদী বা বিল দিয়ে গরু পারাপার কিংবা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে এখন কেবল গুলির ভয় নয়, জলের নিচে ওত পেতে থাকা কুমিরের চোয়াল আর ঝোপের আড়ালে বিষধর সাপের কামড় হবে অনুপ্রবেশকারীর প্রধান আতঙ্ক।
এক সময় সীমান্তের অভিধানে ‘বন্ধুত্ব’, ‘আস্থা’ কিংবা ‘পারস্পরিক সহযোগিতা’ শব্দগুলো ছিল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে কাঁটাতার আর ইলেকট্রিক ফেন্সিং। এখন যদি সাপ ও কুমির যুক্ত হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সীমান্ত আইনের এক নতুন প্রশ্ন তুলে ধরবে।
:
* মানবিক ঝুঁকি: গুলিতে মৃত্যুর পাশাপাশি এখন সাপের বিষ বা কুমিরের আক্রমণে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হবে, যার দায়ভার কার ওপর বর্তাবে তা স্পষ্ট নয়।
* পরিবেশগত প্রভাব: কৃত্রিমভাবে একটি নির্দিষ্ট ইকোসিস্টেমে সাপ বা কুমির মোতায়েন করলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
* কূটনৈতিক দূরত্ব: প্রতিবেশীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বদলে ‘ভয়ভীতি’ প্রদর্শন সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিএসএফের এই ‘বিপ্লবী’ পরিকল্পনাটি যদি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়, তবে তা হবে সীমান্ত রক্ষার ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়। তবে সাধারণ মানুষের মনে একটাই কৌতুকমিশ্রিত প্রশ্ন—সীমান্তের এই ‘অঘোষিত রক্ষীদের’ কি কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যে তারা শুধু অনুপ্রবেশকারীকেই আক্রমণ করবে, নাকি সাধারণ মৎস্যজীবী বা পথচারীরাও হবে তাদের সহজ শিকার? আধুনিক কূটনীতির মঞ্চে ‘সাপ ও কুমির’ তত্ত্ব শেষ পর্যন্ত সীমান্তে কতটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, নাকি এটি কেবলই এক চরম আতঙ্কের নাম হয়ে থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।

সর্বাধিক পঠিত

আজ শুরু এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থ

সীমান্ত পাহারায় এবার ‘বিষাক্ত সরীসৃপ’: কূটনীতির নতুন ব্যাকরণে সাপ ও কুমির

আপডেট: ০৮:৩২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কয়েক হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ রেখায় পাহারার ধরনে এক অভাবনীয় ও আদিম পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তির ‘ড্রোন নজরদারি’ বা ‘থার্মাল ইমেজিং’-এর যুগে এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে প্রকৃতির দুই ভয়ঙ্কর শিকারি—সাপ ও কুমির। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ফেডারেল’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিএসএফের এমন পরিকল্পনার খবর প্রকাশ পাওয়ার পর দুই দেশের সীমান্ত কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিএসএফের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সীমান্ত রক্ষার বিকল্প হিসেবে বিষাক্ত সাপ এবং কুমির মোতায়েনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন সীমান্ত এলাকার নদীপথ ও জলাভূমি, যেখানে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া অসম্ভব বা ড্রোন দিয়েও শতভাগ নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন, সেখানেই এই সরীসৃপ সেনাদের নামানোর চিন্তা করা হচ্ছে। বিএসএফের ভাষায়, মানব পাচার ও চোরাচালান রোধে ‘প্রাকৃতিক বাধা’ তৈরির লক্ষ্যেই এই অভিনব পরিকল্পনা।’
পৃথিবীর ইতিহাসে সীমান্ত রক্ষার কতই না বিচিত্র উদাহরণ আছে। চীনের মহাপ্রাচীর থেকে শুরু করে বার্লিন দেয়াল—সবই ছিল মানুষের তৈরি কাঠামো। কিন্তু বিএসএফ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চেয়ে প্রকৃতির ‘আদিম প্রবৃত্তির’ ওপর বেশি ভরসা করতে চাইছে। এই যেন একুশ শতকের এক নতুন ‘পঞ্চতন্ত্র’। নদী বা বিল দিয়ে গরু পারাপার কিংবা অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে এখন কেবল গুলির ভয় নয়, জলের নিচে ওত পেতে থাকা কুমিরের চোয়াল আর ঝোপের আড়ালে বিষধর সাপের কামড় হবে অনুপ্রবেশকারীর প্রধান আতঙ্ক।
এক সময় সীমান্তের অভিধানে ‘বন্ধুত্ব’, ‘আস্থা’ কিংবা ‘পারস্পরিক সহযোগিতা’ শব্দগুলো ছিল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে কাঁটাতার আর ইলেকট্রিক ফেন্সিং। এখন যদি সাপ ও কুমির যুক্ত হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সীমান্ত আইনের এক নতুন প্রশ্ন তুলে ধরবে।
:
* মানবিক ঝুঁকি: গুলিতে মৃত্যুর পাশাপাশি এখন সাপের বিষ বা কুমিরের আক্রমণে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হবে, যার দায়ভার কার ওপর বর্তাবে তা স্পষ্ট নয়।
* পরিবেশগত প্রভাব: কৃত্রিমভাবে একটি নির্দিষ্ট ইকোসিস্টেমে সাপ বা কুমির মোতায়েন করলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
* কূটনৈতিক দূরত্ব: প্রতিবেশীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার বদলে ‘ভয়ভীতি’ প্রদর্শন সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিএসএফের এই ‘বিপ্লবী’ পরিকল্পনাটি যদি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়, তবে তা হবে সীমান্ত রক্ষার ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়। তবে সাধারণ মানুষের মনে একটাই কৌতুকমিশ্রিত প্রশ্ন—সীমান্তের এই ‘অঘোষিত রক্ষীদের’ কি কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যে তারা শুধু অনুপ্রবেশকারীকেই আক্রমণ করবে, নাকি সাধারণ মৎস্যজীবী বা পথচারীরাও হবে তাদের সহজ শিকার? আধুনিক কূটনীতির মঞ্চে ‘সাপ ও কুমির’ তত্ত্ব শেষ পর্যন্ত সীমান্তে কতটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে, নাকি এটি কেবলই এক চরম আতঙ্কের নাম হয়ে থাকবে, তা সময়ই বলে দেবে।