দেশে গত কয়েক বছরে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে বড় ধরনের ঘাটতি বা ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তৈরি হওয়ায় সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে হাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৬টি জেলাতেই এখন হামের সংক্রমণ বিদ্যমান। এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, আক্রান্তদের ৬৯ শতাংশেরই বয়স দুই বছরের নিচে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা কার্যালয় থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ মার্চ পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ১৯০ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬৭৬ জনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় সংক্রমণের হার ১৬.৮ শতাংশ, যা গত বছর ছিল মাত্র ০.৭২ শতাংশ। এদিকে মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৫০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে দেশ থেকে হাম ও রুবেলা নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি সেই অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলেছে। প্রাদুর্ভাবের মূল কারণগুলো হলো:
* টিকাদানে ঘাটতি: গত দুই বছরে যারা হামের টিকার এক বা একাধিক ডোজ পায়নি, তারাই সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
* শিশুদের উচ্চ ঝুঁকি: আক্রান্তদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ শিশুর বয়স ৯ মাসের কম, যা কনিষ্ঠতম জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চ সংবেদনশীলতা নির্দেশ করে।
* হটস্পট চিহ্নিত: ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগকে সংক্রমণের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশ সরকারকে কয়েকটি জরুরি পরামর্শ দিয়েছে:
১. ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য দ্রুত সারা দেশে উচ্চমানের হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করা।
২. নজরদারি ও দ্রুত পরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা।
৩. আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন-এ নিশ্চিত করাসহ উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
৪. জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সঠিক তথ্য প্রচার করা।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (IEDCR) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। তিনি বলেন, “মাঠপর্যায়ের পাশাপাশি কেন্দ্র ও জেলা পর্যায়ে জনবল সংকট দূর করতে হবে এবং এই কার্যক্রমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে হবে।”





















