ভালোবাসা কেবল চার দেয়ালের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জীবনযুদ্ধের কঠিন পথেও যে একে অপরের ছায়া হওয়া যায়, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখালেন এক ভারতীয় দম্পতি। ঝাড়খণ্ড থেকে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে বেনাপোল বন্দরে আসা এই দম্পতিকে ঘিরে বর্তমানে বন্দর এলাকায় বইছে কৌতূহল ও প্রশংসার জোয়ার।
ঘটনাটি ঘটে বেনাপোল স্থলবন্দরের নবনির্মিত কার্গো ভেহিক্যাল টার্মিনালে। ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশের সময় সাধারণত চালক ও তার সহকারীর (হেল্পার) তথ্য এন্ট্রি করতে হয়। ঝাড়খণ্ড রাজ্য থেকে আসা একটি ট্রাকের কাগজ পরীক্ষা করতে গিয়ে কর্তব্যরত কর্মকর্তাদের নজরে আসে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য। দেখা যায়, ট্রাকের স্টিয়ারিংয়ে স্বামী থাকলেও সহকারীর আসনে বসে আছেন তার সহধর্মিণী।
পেশা ও সম্পর্কের অপূর্ব মেলবন্ধন
কর্তব্যরত বন্দর অফিসার জানান, ট্রাকটি টার্মিনালে প্রবেশের পর উৎসুক জনতার ভিড় দেখে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে যান। পরে তাদের নিচে ডেকে কথা বলে জানা যায়, তারা স্রেফ সহকর্মী নন, বরং আইনত বিবাহিত দম্পতি। তারা জানান:
* তারা ভালোবেসে সংসার শুরু করেছেন।
* দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় একে অপরের একঘেয়েমি কাটাতে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে একসাথেই কাজ করেন।
* স্বামী যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েন বা ট্রাক চালান, স্ত্রী তখন সহকারী হিসেবে পথের দেখভাল এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন।
> “আমরা তাদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। পেশাগত জীবনেও ভালোবাসার মানুষকে এভাবে সহযোদ্ধা হিসেবে পাশে পাওয়া বিরল। জয় হোক ভালোবাসার।”
> — সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্মকর্তা (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত)
সাধারণত আন্তঃদেশীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নারী চালক বা সহকারী দেখার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। এই দম্পতিকে দেখতে বন্দরের শ্রমিক, সিএন্ডএফ এজেন্ট ও সাধারণ মানুষ ভিড় জমান। তাদের এই পেশাগত সাহসিকতা ও একে অপরের প্রতি টান দেখে অনেকেই মুগ্ধ হয়েছেন।
নিরাপত্তা ও বিদায়
বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। যেহেতু তারা ভিনদেশী এবং নারী সহকারী সাথে রয়েছেন, তাই তাদের বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে। পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে এই দম্পতি পুনরায় ভারতের ঝাড়খণ্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন।
সীমানা পেরিয়ে আসা এই দম্পতি প্রমাণ করেছেন যে, জীবন যুদ্ধে জীবনসঙ্গী যদি সহযোদ্ধা হয়, তবে হাজার মাইলের পথও অনেক সহজ হয়ে যায়। বেনাপোল বন্দরের ইতিহাসে এই ঘটনাটি দীর্ঘকাল ভালোবাসার এক অনন্য স্মারক হিসেবে থেকে যাবে।









