্চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহর ওপর ব্লেড ও ক্ষুর দিয়ে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হাটহাজারী বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি ফুয়েল স্টেশনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মাসুম বিল্লাহর চোখের উপরের অংশ মারাত্মকভাবে কেটে গেছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমানও গুরুতর আহত হন।
জানা যায়, মাসুম বিল্লাহ ও তার বন্ধু হাসিবুর রহমান মোটরসাইকেলে তেল নিতে হাটহাজারীর ওই ফুয়েল স্টেশনে গেলে ৭-৮ জন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত তাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। হামলাকারীরা ধারালো ব্লেড ও ক্ষুর দিয়ে মাসুম বিল্লাহর মুখে ও মাথায় আঘাত করে। খবর পেয়ে চাকসুর সহ-সাহিত্য সম্পাদক জিহাদ হোসাইন ও আইন সম্পাদক ফজলে রাব্বি তাওহিদ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
হামলার নেপথ্যে ‘পুরানো শত্রুতা’
ভুক্তভোগী মাসুম বিল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, গত ৪ মার্চ ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গতিতে বাইক চালিয়ে এক শিক্ষার্থীকে আহত করার ঘটনায় তিনি সমঝোতায় ভূমিকা রেখেছিলেন। অভিযুক্ত বহিরাগত চালক আরিফুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সেই সমঝোতার জের ধরেই এই ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
চিকিৎসা ও বর্তমান অবস্থা
চবি মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মাসুম বিল্লাহর চোখের ওপরে গভীর ক্ষত রয়েছে এবং তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুসি ও ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আইনি পদক্ষেপ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য
এই ঘটনায় অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে।
> “ঘটনার খবর পেয়েই আমরা একজনকে মেডিকেলে পাঠিয়েছি। থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে জানানো হয়েছে।”
> — অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী, প্রক্টর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।




















