যশোরে ২০০ গ্রাম হেরোইন রাখার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এস্কেন্দার আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) তিনি যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করলে বিচারক মোহাম্মদ শাহীদুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামি এস্কেন্দার যশোর শহরের বেজপাড়া নলডাঙ্গা রোড এলাকার মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে। মাদক পাচারের অভিযোগে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে এই কঠোর সাজা প্রদান করেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও উদ্ধার অভিযান
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে শার্শা থানা পুলিশের কাছে একটি গোপন সংবাদ আসে। সংবাদটি ছিল—নাভারণ শহীদ মোড়ে এক ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ হেরোইন নিয়ে যশোরগামী বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।: শার্শা থানার এসআই বাবুল আক্তার তাৎক্ষণিক একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালান।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এস্কেন্দার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে ধরা হয়।
: তার হাতে থাকা একটি শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে দুটি পোঁটলায় মোট ২০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা।
এই ঘটনায় শার্শা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মামুনুর রশিদ তদন্ত শেষে এস্কেন্দারকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে গত ৫ মার্চ আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে এস্কেন্দারকে:
যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড।
১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকলেও সোমবার তিনি সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুলিশি পাহারায় তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




















