যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর ব্রিজ সংলগ্ন ভৈরব নদের পাড় আবারও অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছে। উচ্ছেদের কয়েক বছর পর আবারও প্রভাবশালী একটি চক্র প্রকাশ্যে বাঁশ দিয়ে খুঁটি গেড়ে দোকান নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এতে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দখলের নেপথ্যে যারা
স্থানীয়দের অভিযোগ, নীলগঞ্জ শাহাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং যশোর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজগর আলীর নেতৃত্বে এই দখলের কার্যক্রম চলছে।
: আজগর আলী দীর্ঘদিন ধরে ওই সরকারি জায়গা দখল করে দোকান ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। ভৈরব নদ খননের সময় প্রশাসন সেগুলো উচ্ছেদ করে।
: রোববার সকাল থেকে পুনরায় ওই ফাঁকা জায়গায় শ্রমিকদের দিয়ে খুঁটি গাড়ার কাজ শুরু করা হয়েছে।
: আজগর আলীর সঙ্গে তার ছোট ভাই লুৎফর রহমানও এই দখল প্রক্রিয়ায় জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।
রোববার সরেজমিনে ঝুমঝুমপুর ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একদল শ্রমিক প্রকাশ্যে নদীর পাড়ে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করে দোকান ঘর তৈরির কাজ করছেন। শ্রমিকদের সাথে কথা বললে তারা সরাসরি জানান যে, আজগর আলীর নির্দেশেই তারা এই নির্মাণ কাজ করছেন।
অভিযুক্তদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
দখলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মূল অভিযুক্ত আজগর আলী এবং তার ভাই লুৎফর রহমান দায় এড়িয়ে গেছেন:
* আজগর আলী: তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। যারা আমার নাম বলছে তারা ভুল বলছে।” তবে তিনি কৌশলে দায় চাপিয়ে বলেন, তার ভাই লুৎফর এতে জড়িত থাকতে পারেন।
* লুৎফর রহমান: তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “একসময় ওই জায়গা দখল করে রেখেছিলাম, কিন্তু এখন আর ওই লাইনে নেই। এখন রাজনীতি করি।”
এলাকাবাসী জানান, সরকারি সম্পত্তি দখল করে বছরের পর বছর ভাড়া আদায়ের পর উচ্ছেদ হলেও এই চক্রটি আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এর আগেও শাহাপাড়া এলাকায় নদের পাড়ের গাছ কাটতে গিয়ে আজগর আলী আটক হয়েছিলেন। তারা দ্রুত এই অবৈধ কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী জানান, নদের পাড় দখলের বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, সোমবার (৩০ মার্চ) ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















